রাতে ডিম খাওয়ার উপকারিতা-মুরগির ডিমের পুষ্টিগুণ জেনে নিন

রাতে ডিম খাওয়ার উপকারিতা প্রতিদিন ২টা করে ডিম খেলে কি হয় আমরা অনেকেই তা জানি না আমরা শুধু ডিম খায় কিন্তু ডিমের পুষ্টিকুণ সম্পর্কে আমাদের সেরকম ধারণা নেয় এবং সঠিক তথ্য খুঁজে পায় না। আজকে আমার এই আর্টিকেলে উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব।
প্রিয় পাঠক ডিমের কুসুমের উপকারিতা সিদ্ধ ডিম খাওয়ার উপকারিতা ডিমের আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস নিয়ে আলোচনা করব। ডিম সম্পর্কে জানতে হলে আমার এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধৈর্য সহকারে পড়ুন।

ভূমিকা

ডিম একটি সুষম খাবার। ডিমের মধ্য পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। ডিমে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, আমিষ, প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ, লবণ ও পানি রয়েছে। আমাদের সকলের উচিত প্রতিদিন সকাল ও রাতে একটি করে ডিম খাওয়া তাহলে আমাদের শরীরের পুষ্টির ঘাটতি ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে। আমরা অনেকে ডিম খেতে পছন্দ করি। হার্ট সুস্থ রাখতে হলে প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়া খুব প্রয়োজন। ডিম আমাদের শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে এবং হার্টের কোন ক্ষতি হয় না।

দেশি মুরগির ডিমের উপকারিতা

রাতে ডিম খাওয়ার উপকারিতা? দেশি মুরগির ডিমের উপকারিতা সম্পর্কে সবাই জানে না তবে ছোট থেকে বয়স্ক সকলে ডিম খেতে পছন্দ করে। ডিম খায় না এমন মানুষ খুজে পাওয়া অসম্ভব। ডিম খেতে যেমন সুন্দর তেমনি পুষ্টি গুনে ভরপুর। পুষ্টিগণ সম্পন্ন ডিম সব জায়গায় পাওয়া সম্ভব তাই এটি সব সময় পাওয়া যায়। ডিম খেলে যেমন উপকারিতা রয়েছি তেমনি অপকারীতা রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক দেশী মুরগির ডিম খাওয়ার উপকারিতা-

এনার্জি বাড়ায়: আমাদের দেহে এনার্জি বাড়ানোর জন্য উপকারী ও পুষ্টিকর খাবার ডিম। ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণের ভিটামিন যা আমাদের এনার্জি বাড়ানোর জন্য সাহায্য করে প্রতিদিন খাবার তালিকায় একটি করে ডিম রাখতে পারেন ।
শরীরের শক্তি যোগায়: ডিম আমাদের শরীরের শক্তি যোগায় প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরের বিশেষ করে শক্তি যোগায় ডিমে আছে অনেক পুষ্টিগুণ। তাই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় তেমন শরীরে শক্তি অনেকখানি যোগায়। আমাদের শরীরের বিশেষ করে শক্তির প্রয়োজন হয় তাই প্রতিদিন ডিম খেলে আমাদের শরীরের অনেকখানি শক্তির ঘাটতি পূরণ করে। তাই আমাদের প্রতিদিন ডিম খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী।
হাড় শক্ত করে: ডিম আমাদের শরীরের প্রতিটি হাড় কে শক্ত করে এবং হাড়ের দুর্বল ও ব্যাথা সারাতে ডিমে আছে অনেক পুষ্টিগু আমাদের শরীরে উপকার করে থাকে। এছাড়াও আমাদের শরীরে বিভিন্ন প্রকারের উপকার করে থাকে।
দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়: বর্তমান সময়ে যেকোনো বয়সের মানুষের চোখে সমস্যা দেখা দেয়। যেমন বয়স্ক মানুষের চোখে সমস্যা হয়। তেমন ছোট মানুষেরও চোখে সমস্যা হয়। তাই সাম্প্রতিক সময় মানুষের চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাচ্ছে তাই খাবার তালিকায় চোখের দৃষ্টি শক্তিকে ভালো রাখার জন্য ডিম খুব উপকারী হতে পারে। যাদের চোখের সমস্যা প্রতিদিন ডিম খেতে পারেন ডিমের ভেতর অনেক পুষ্টিগণ রয়েছে যা দৃষ্টিশক্তি বাড়ির দিতে পারে।
হার্ট সুস্থ রাখে: আমাদের শরীরের বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো হাট। হার্ট কে সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত যদি আমরা ডিম খেতে পারি। তাহলে হাটকে সুস্থ রাখতে পারব। ডিম খেলে শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে হার্টে রক্তের জমাট বাঁধে না ডিম খুব উপকারী হার্টের জন্য। তাই হার্ট ভালো রাখার জন্য ডিম খুব উপকারী ।
কোলেস্টের নিয়ন্ত্রণ রাখি ডিম: প্রতিদিন ডিম খেলে আমাদের শরীরের কোলেস্টেরল মাত্রা বৃদ্ধি পায়। আমাদের শরীরে দুই ধরনের কোলেস্টেরল থাকে। যা ডিম খেলে নিয়মিত কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে।
গর্ভবস্থায় ডিমের উপকারিতা: গর্ভকালীন সময়ে মেয়েদের অনেক পুষ্টি গুণের প্রয়োজন হয় তাই ডিম একটি পুষ্টিগণ সম্পন্ন খাবার ডিম খেলে খেলে গর্ভকালীন সময়ে শরীরের পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ খাবার যা মা ও শিশু উভয়ে সুস্থ থাকে। তাই ডিম খেলে বাচ্চাকে পুষ্টি পরিপূর্ণ রাখে।

রাতে ডিম খাওয়ার উপকারিতা

ডিমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে যা আমাদের মস্তিষ্কের জন্য খুব উপকারী। ডিম আমরা অনেকেই সকালেই খেয়ে থাকি। রাতে ডিম খেলে কোন সমস্যা নেই রাতে ডিম খাওয়ার বেশি উপকারিতা রয়েছে। চলুন জেনে নেই রাতে ডিম খাওয়ার উপকারিতা-

  1. ডিমের প্রচুর পরিমাণে ট্রিপটোফেন থাকে। যা আমাদের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এবং মনকে শান্ত করে। শরীরের হরমোন কমায় রাতে ডিম খেলে কোন সমস্যা হয় না।
  2. রাতের বেলা ডিম খেলে ঘুম ভালো হয়। ডিমে রয়েছে মেলাটোনিন এই উপাদানটি খুব ভালো হতে সাহায্য করে।
  3. ডিম হাড় ও মস্তিষ্ক কোষগুলো উন্নত করে। রাতে ডিম খেলে শরীরে ভালো কোলেস্টেরল জমা হয় এবং সকালে সূর্যের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে তা থেকে ভিটামিন ডি তৈরি করতে শুরু করে।
  4. রাতে ডিম খেলে ওজন কমাতে কাজ করে। রাতে ডিম খেলে প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ শরীরে থাকে রাতে বেশি খাবারের প্রবণতা কমে।
  5. ডিম পেশীকে শক্তিশালী করে হরমোনের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে ডিম শরীরের ওজন কমাতে বেশ সাহায্য করে।

বয়লার মুরগির ডিমের উপকারিতা

বয়লার মুরগির ডিম খেলে যেমন উপকার রয়েছে তেমনি ক্ষতিকর দিকগুলো রয়েছে বয়লার মুরগির ডিমের অনেক পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে সাথে সাথে অপকারিতা রয়েছে।চলুন জেনে নেওয়া যাক বয়লার মুরগির ডিম খাওয়ার উপকারিতা-

  • দেশি মুরগির ডিমের চাইতে বয়লার মুরগির ডিমের বেশি পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। বিশেষ করে বয়লার মুরগির সঠিক পরিচর্যা ও সঠিক খাবার প্রদান করলে অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ডিম দেয়। 
  • বয়লার মুরগির ডিমের পুষ্টি উপাদান হিসেবে রয়েছে ভিটামিন মিনারেল প্রোটিন ওমেগা ফ্যাট অন্যান্য পুষ্টি গুণ সম্পন্ন অধিক পরিমাণে রয়েছে।
  • বয়লার মুরগির ডিমের প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে যা মূলত প্রোটিনের অন্যতম উৎস এটি মানসিক বিকাশ গঠনে ভূমিকা রাখে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি আমাদের মাংসপেশি গঠনে সহায়তা করে।
  • বয়লার মুরগি ডিমের বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন রয়েছে যেমন ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, আয়রন, জিংক ইত্যাদি যা আমাদের দেহের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। রয়েছে একটি আন্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রোটিন যার শিশুদের সাথে সাথে বুদ্ধি ও বিকাশ সহায়তা করে।
  • বয়লার মুরগির ডিমের সাদা অংশ থেকে অধিক পরিমাণে জৈব আমিষ আমাদের দেহে বিভিন্ন কাজ করে থাকে। আমাদের মনে রাখা উচিত সকল সকল জিনিসের ভালো ও খারাপ দুটোই দিক রয়েছে এটি নির্ভর করে নিজের উপর কি মাত্রায় ব্যবহার করছে তেমনি ভাবে ডিম সঠিক পরিমাণে খেলে ভালো পরিমাণে পুষ্টি পাওয়া যায়।
  • অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে তা না হলে উপকারের চাইতে অপকারিতায় বেশি হবে। সবকিছু অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে পুষ্টি পাওয়া যায় না তাই সঠিক নিয়মে ডিম খেতে হবে। তাহলে সঠিক গুনাগুন পাওয়া সম্ভব।

সিদ্ধ ডিম খাওয়া উপকারিতা অপকারিতা

সিদ্ধ ডিম খাওয়া উপকারিতা
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়: প্রতিদিন সকালে সিদ্ধ ডিম খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
সিদ্ধ ডিমের ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার: সিদ্ধ ডিমের প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে। এছাড়াও ভিটামিন বি ১২ পাওয়া যায়। যা লোহিত রক্তকণিকা বজায় রাখে এবং সুস্থ স্নায়ু কোষ গঠন করে।
গর্ভবতী মায়েদের জন্য ভালো: গর্ভকালীন সময়ে মেয়েদের অনেক পুষ্টি গুণের প্রয়োজন হয় তাই ডিম একটি পুষ্টিগণ সম্পন্ন খাবার প্রতিদিন সিদ্ধ ডিম খেলে গর্ভকালীন সময়ে শরীরের পুষ্টিগুণ বেড়ে যায় যা মা ও শিশু উভয়ে সুস্থ থাকে। তাই ডিম খেলে বাচ্চাকে পুষ্টি পরিপূর্ণ রাখে।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: ক্যান্সার হলে মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। নিয়মিত সিদ্ধ ডিম খেলে মরণ বাটি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় ক্যান্সারে প্রতিরোধে নতুন কোষ গঠন করতে সিদ্ধ ডিম সাহায্য করে।
হাড় শক্ত ও মজবুত হয়: নিয়মিত সিদ্ধ ডিম খেলে বেশি শক্তিশালী হাড়ের ব্যথা ভালো হয়।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে: উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে সিদ্ধ ডিম ভূমিকা রাখে। সিদ্ধ ডিমের খারাপ কোলেস্টরে তুলনায় ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেঁচে থাকে। তাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

সিদ্ধ ডিমের অপকারিতা
রাতে ডিম খাওয়ার উপকারিতা? প্রতিটি খাবারেরই উপকারিতা ও অপকারিতা রয়েছে তেমনি সিদ্ধ ডিম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা রয়েছে বিশেষ করে যদি বেশি পরিমাণে সিদ্ধ ডিম খাওয়া হয় তাহলে স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। চলুন জেনে নেওয়া যাক সিদ্ধ ডিমের অপকারিতা ও অসুবিধা গুলো:-

  1. সিদ্ধ ডিমে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল থাকে সিদ্ধ করা বেশি ডিম খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি হতে পারে।
  2. সিদ্ধ ডিম বেশি খেলে হার্ট অ্যাটাক ওই স্টকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  3. যাদের হৃদ রোগের সমস্যা রয়েছে সিদ্ধ ডিম খাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা হওয়া উচিত
  4. বেশি সিদ্ধ করা ডিম খেলে হজম শক্তি কঠিন হয়ে যায়। যাদের হজমজনিত সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য সিদ্ধ ডিম খাওয়া খুব যন্ত্রণাদায়ক।
  5. ডিমে প্রচুর পরিমাণে এলার্জি থাকে যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে। তারা সিদ্ধ ডিম খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
  6. সিদ্ধ ডিম খেলে ওজন বৃদ্ধি পায়।
  7. যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে তারা ডিমের কুসুম খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন
  8. সিদ্ধ ডিম খাওয়ার অপকারিতার চেয়ে উপকারিতাই বেশি। আপনারা যদি নিয়ম মেনে পরিমান মত সিদ্ধ ডিম খান তাহলে অপকারিতা হচ্ছে উপকারিতাই বেশি পাবেন। তবে সিদ্ধ ডিম খাওয়ার পরে যাদের স্বাস্থ্যের সমস্যা হয় তারা সিদ্ধ ডিম খাওয়ার এজন্য সচেতন হবেন।

মুরগির ডিমের পুষ্টিগুণ

মুরগির ডিমে অসংখ্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা আমাদের শরীরের ঘাটতি পূরণ করতে গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। ডিমের মধ্যে রয়েছে প্রোটিন শর্করা ভিটামিন এ ভিটামিন ই ভিটামিন ডি ভিটামিন বি ১২ ক্যালসিয়াম আয়রন ম্যাগনেসিয়াম যা ডিমের মধ্যে রয়েছে। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় ডিম রাখা খুব দরকার। ডিম আমাদের বিভিন্ন চাহিদার ঘাটতি পূরণ করে। ডিম ডিম খেলে আমাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায় এবং আমাদের শরীরের কোন ক্ষতি হয় না।
পুষ্টি উপাদান পরিমান
শক্তি ১৭৩ কিলো ক্যালরি
শর্করা ৩.৫৯ গ্রাম
স্নেহ ২৬.৫০ গ্রাম
প্রোটিন ১৩.৩ গ্রাম
ফসফরাস ১০ গ্রাম
লোহা ৬০ মিলি গ্রাম
ক্যালসিয়াম ৭০ মিলিগ্রাম
ভিটামিন এ ২৯ গ্রাম
কোলেস্টরল ১৮০ মিলি গ্রাম

হাঁসের ডিম খাওয়ার উপকারিতা

রাতে ডিম খাওয়ার উপকারিতা? হাঁসের ডিমে অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে হাঁসের ডিমের উপকারিতা ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে পরিচিত প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি প্রোটিন রয়েছে।আমরা সব সময় মুরগির ডিম খুব বেশি খেয়ে থাকি হাসির ডিম কম খেয়ে থাকি। কারণ হাঁসের ডিম সম্পর্কে পুষ্টিগুণ আমরা জানি না এ বিষয়টা নিয়ে আমাদের মনে সন্দেহ থাকে। হাঁসের ডিম খেলে কোন সমস্যা হবে কি না, কারণ দেশি মুরগির ডিম নিয়ে আমরা বেশি পরিচিত। চলুন জেনে নেয় হাঁসের ডিম খাওয়ার উপকারিতা-


  • হাঁসের ডিমের ভিটামিন এ ভিটামিন বি আয়রন ক্যালসিয়াম রয়েছে যা শরীরের দৃষ্টিশক্তি কোন প্রতিরোধ হারের স্বল্পতা মস্তিষ্কের কার্যকরী উন্নতি করতে সাহায্য করে।
  • হাঁসের ডিম হৃৎপিন্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
  • হাসের ডিম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে।
  • একটি গর্ভবতী মহিলা যদি প্রতিদিন হাঁসের ডিম খায় তাহলে তার স্বাস্থ্যের অনেক উপকার হবে এবং নবজাতক বাচ্চার স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে। কারণ হাঁসের ডিমের প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি ও খনিজ উপাদান রয়েছে। গর্ভবতী মহিলাদের খনিজের উপাদানের ঘাটতি পূরণ করার পাশাপাশি গর্ভের বাচ্চার হার ও শরীরের গঠনে সাহায্য করে।
  • হাঁসের ডিমে অনেক ক্যালরি আছে যা মস্তিষ্ক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্মৃতিশক্তি শেখার ক্ষমতা ইত্যাদি উন্নত করতে সাহায্য করে।
  • হাঁসের ডিমের কুসুমে লুটেইন রয়েছে এবং অ্যান্টঅক্সিডেন্ট রয়েছে যার চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। হাসের ডিম খেলে চোখের ছানির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
  • হাঁসের ডিমের স্বাস্থ্যকর চর্বি রয়েছে এবং দীর্ঘস্থায়ী শক্তি রয়েছে। হাঁসের ডিম খেলে শরীরের শক্তি ও অনেক ঘাটতি পূরণ করে।
  • হাঁসের ডিমের প্রোটিনে রয়েছে যা শরীরের পেশী টিস্যু শরীরের বিভিন্ন কাছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • হাঁসের ডিমে পুষ্টিগুণের মাত্রা অনেক বেশি থাকে ডিম আমাদের শরীরের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থেকে রক্ষা করতে পারে। যাদের উচ্চ রক্তচাপচনিত সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত হাঁসের ডিম খেতে পারেন কারণ হাসে ডিমে থাকা পুষ্টিগুণ আমাদের শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
  • হাঁসের ডিমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকায় এটি আমাদের ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আপনার ত্বক যদি ফাঁকা সে থাকে আপনি নিয়মিত হাঁসের ডিম খেতে পারেন এটি আপনার ত্বককে ভিতর থেকে উজ্জ্বল ও পাশাপাশি ত্বক স্বাস্থ্যকর দেখাবে।

প্রতিদিন ২টা করে ডিম খেলে কি হয়

প্রতিদিন ২টা করে ডিম খেলে কি হয়? প্রতিদিন ২টা করে ডিম খেলে অনেক উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ পাওয়া যায় ভিটামিন বি, বায়োটিন, থিয়ামিন সহ অনেক উপকারী উপাদান যা আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী। এবং ত্বক চুল এর স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। আমরা সকলেই ডিম পছন্দ করি। প্রতিদিন আমরা একটি করে সাধারণত ডিম খেয়ে থাকি। যদি আমরা প্রতিদিন রাতে ডিম খেলে অনেক উপকার পাবেন  দুইটি করে ডিম প্রতিদিন খেতে পারি তাহলে আমরা আরো বিভিন্ন নানা উপকার মিলতে পারে।

চলুন জেনে নেই দুইটি করে ডিম খাওয়ার উপকারিতা-

  1. প্রতিদিন দুইটি করে ডিম খেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি, থায়োমিন, থাকার কারণে আমাদের ত্বক চুল স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ত্বকে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে দেয় না।
  2. প্রতিদিন দুইটি করে ডিম খেলে মস্তিষ্ক সচল রাখে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
  3. প্রতিদিন দুইটি করে ডিম খেলে যারা ওজন বাড়াতে চান তাদের জন্য খুব উপকারী হবে কারণ ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন। যদি কারোর এলার্জির সমস্যা থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে প্রতিদিন দুটি করে ডিম খাওয়া উচিত।
  4. ডিমে রয়েছে আন্টি-অক্সিডেন্ট উপাদানগুলো দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
  5. প্রতিদিন দুইটি করে ডিম খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  6. প্রতিদিন দুইটি করে ডিম খেলে অনেক উপকার পাবেন কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায় হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

কাঁচা ডিম খেলে কি হয়

কাঁচা ডিম খাওয়ার ফলে শরীরের পুষ্টির চাহিদা মেটে সাথে সাথে শরীরের শক্তি সরবরাহ করে। স্বাস্থ্যের জন্য শরীরের শক্তি বৃদ্ধিতে কাঁচা ডিম খুব খাওয়া হয় ডিমে থাকা প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ডি, ই, ও কে যা পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে। কাঁচা ডিমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। ডিমের মধ্যে থাকা ফসপোলিপিড আমাকে একটি উপাদান থাকে যা দেহের মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়া প্রয়োজন তাহলে আমাদের দেহের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে।

  • কাঁচা ডিম অনেকের শরীরে ক্ষতি কর প্রভাব ফেলে চলুন জেনে নেই কাঁচা ডিম খেলে কি হয়-
  • কাঁচা ডিম খেলে গ্যাসের সমস্যা পেট ফুলে ফেপে যায়।
  • কাঁচা ডিম খাওয়ার ফলে যাদের এলার্জির সমস্যা রয়েছে এলার্জি বেড়ে যায়।
  • কাঁচা ডিম খাওয়ার ফলে গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয় এবং শ্বাসকষ্ট সমস্যা হতে পারে।
  • কাঁচা ডিমের নানারকম রোগ জীবাণু থাকে যার ফলে শরীরের বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে।

ডিমের কুসুমের উপকারিতা

আমরা অনেকেই ডিম সিদ্ধ করে খেয়ে থাকি। সিদ্ধ ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে খাওয়া ঠিক নয়। ডিমের কুসুমে থাকে ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, ভিটামিন কে, আয়রন, ফসফরাস ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী-

  1. ডিমের কুসুম খেলে মস্তিষ্ক বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে।
  2. যাদের দৃষ্টি শক্তি কম ও দৃষ্টিশক্তির সমস্যা রয়েছে তারা কখনোই ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে খাবেন না ডিমের কুসুমে রয়েছে লিউটিন ও জিয়াজ্যানথিন এই দুইটা উপাদান চোখ ভালো রাখতে খুব কার্যকরী।
  3. রক্তচাপের সমস্যা থাকলে এই রক্তচাপ বিভিন্ন ধরনের রোগ ডেকে আনে সুস্থ থাকার জন্য রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকা খুব জরুরী। হাইপারটেনশনে থাকা রোগীদের জন্য ডিমের কুসুম খুব কার্য করে খাবার। ডিমের কুসুমে থাকা পেপটাইডস নামক উপাদানটি রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এবং আরো জটিল রোগের প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  4. ডিমের কুসুম ত্বক উজ্জ্বল করে।শরীরে সিরামাইড ও পেপটাইড সরবরাহ করতে সাহায্য করে যা ত্বকের বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে।

লেখকের শেষ মন্তব্য

রাতে ডিম খাওয়ার উপকারিতা প্রতিদিন ২টা করে ডিম খেলে কি হয় ডিমের পুষ্টিগুণ সিদ্ধ ডিম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা হাঁসের ডিম খাওয়ার উপকারিতা কাঁচা ডিম খেলে কি হয় ডিমের কুসুমের উপকারিতা। ডিমে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে। যা আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী।আশা করি ডিম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

আমার এই আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে আপনার পরিচিত বন্ধু বান্ধবদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো। আমার এই আর্টিকেলটি কেমন হয়েছে তা কমেন্ট করে আমাকে জানাবেন। (ধন্যবাদ)




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আশা অনলাইন শপ নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url