৫টি আমের পুষ্টিগুণ ও উপকারি সম্পর্কে জানুন

আমের পুষ্টিগুণ ও উপকারি, আম খেলে কি গ্যাস হয় সম্পর্কে, হয়তো আপনারা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সঠিক উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না টেনশনের কোন কারণ নেই।


এখানে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টপিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যেমন শিশুদের আম খাওয়ার উপকারিতা সহ বেশ গুরুত্বপূর্ণ আরো বেশ কয়েকটি টপিক রয়েছে। সেগুলো বিস্তারিতভাবে জানতে হলে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

ভূমিকা 

প্রিয় পাঠক আজ কাল আম খাওয়ার নিয়ম কানুন, আমের পুষ্টিগুণ ও উপকারি সম্পর্কে জানব আম খাওয়ার পর পরই আমরা কখনোই পানি খাব না।আম খাওয়ার আধা ঘন্টা পর পানি পান করব নয়তো গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।আমি আরো আম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা আমে কি কি ভিটামিন আছে ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে আমি আলোচনা করব।

আম খাওয়ার নিয়ম

বর্তমান এখন আমের সময়ে আম কমবেশি সবাই পছন্দ করে।আমের সুনিষ্টির স্বাদ আর ঘ্রাণে শুধু মন ভরেনা আমে রয়েছে আমের পুষ্টিগুণ ও উপকারি ও কিন্তু আম খাওয়ার সময় সাধারণত কিছু নিয়ম আছে।সেগুলো নিয়ম মেনে না চললেই বিপদ।চলুন জেনে নেওয়া যাক আম খাওয়ার আগে কোন নিয়ম গুলো মেনে চলবো।

আম খাওয়ার পরে পানি: আম খাওয়ার সাথে সাথে পানি কখনোই খাবেন না।পানি খেলে গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা হতে পারে।আম খাওয়ার পরে ২০থেকে ৩০মিনিট পর পানি খাবেন।আম খাওয়ার আগে আম বাজার থেকে কিনে আনুন বার নিজের গাছের অবশ্যই খাওয়ার আগে কিছু সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।কারণ আমে থাকে ফাইটিক এসিড নামক উপাদান।এই এসিড শরীরের জন্য ক্ষতিকর শরীরের নানা প্রক্রিয়ায় এসিড সৃষ্টি হতে পারে।এজন্য আম খাওয়ার আগে ১-২ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন।

রাতে খাবারের পরে খাবেন না: আপনারা নিয়মিত খাবারের সাথে আম খাবেন না।সকালের নাস্তা বা দুপুর রাতের খাবারের সাথে আম খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।এমনকি রাতে খাওয়ার এর শেষে আম খাবেন না।

ডায়বেটিস রোগীদের আম খাওয়ার নিয়ম: পরিমিত আম খেলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ে, যা রোগীদের জন্য ভালো যাদের ডায়াবেটিস আছে।তারা তাজা আম খাবেন, আমে চিনির পরিমাণ যেন কম থাকে দিনে দু-এক টুকরার বেশি আম খাবেন না।

আম খেয়ে দই খাবেন না: আম খাওয়ার পর দই খাওয়া একদম উচিত নয়।আম খাওয়ার পর দই খেলে শরীরে শর্করার ভাগ অনেক বেড়ে যায়।ফলে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং ত্বকের ও সমস্যা হতে পারে।এতে এক ধরনের বিষক্রিয়াও হতে পারে।এই জন্য আম খাওয়ার পর দই একদম খাবেন না।

পাকা আম খাওয়ার উপকারিতা 

আমের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ,আমের পুষ্টিগুণ ও উপকারি রয়েছে আমে আছে অনেক ভিটামিন এ, বি, সি, ই,ইত্যাদি।সুমিষ্ট ফলে ক্যালোরি অনেক কম, আমে ভিটামিন সি থাকায়।এই ফল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।আম খেলে শরীরের আয়রন এর ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি এর প্রায় ৭০ ভাগ আমে পাওয়া যায়।

গর্ভাবস্থায় আম খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় মহিলাদের খাবার নিয়ে বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত।তাদের এমন কিছু স্পর্শ না করা উচিত।যা তাদের গর্ভাবস্থায় এই ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।গর্ভাবস্থায় মহিলারা সব ধরনের ফল খেতে পারেন।গর্ভ অবস্থায় ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়, এইজন্য অনেকেই আম খেতে চায় না গর্ভবস্থায়, আমে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।আম অনেক রোগ থেকে আমাদের বাঁচাতে পারে।

আম খেলে কি গ্যাস হয়

আমরা জানি মে মাসের শুরু থেকেই বাজারে ভালো মানের পাকা আম পাওয়া যায়।এই সময় খুব গরম ও থাকে গরমে অনেকের বদহজম হয়।গরমে বদহজম সমস্যা দূর করতে আপনি আম খেতে পারেন।আমের মধ্যে ডাইরেক্টরি ফাইবার রয়েছে, যা হজমের সমস্যা দূর করতে সহায় হোক সবকিছুই নিমিষে দূর হয়ে যায়।এছাড়াও এই ফলের মধ্যে আমের পুষ্টিগুণ ও উপকারি, পলিফেনল ও ফাইবার রয়েছে, যা অনেক সমস্যা দূর করতে সহায়ক।আম খেলে কি গ্যাস হয় জি হয় বেশি আম খেলে অনেকের গ্যাস সে সমস্যা হয় যারা সব সময় গ্যাস বুক জ্বালা সমস্যার ভোগেন।




তাদের আম থেকে দূরে থাকা পরামর্শ দেন ডাক্তারেরা।দুপুরে টিফিন করার পর সন্ধ্যার অফিস থেকে বেরিয়ে গলা ভেজাতে এক গ্লাস আমের শরবত, রাতে খাবার খাই।আম খেলে গ্যাস সমস্যা হয়।আম পেটের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাতে পারে বিশেষ করে যারা সারা বছরই গ্যাস বুক জ্বালা পেট ফাঁপার সমস্যায় ভোগেন।তাদের আম পরিমাণ মত খেতে হবে।যাদের সমস্যা রয়েছে তারা যদি দিনে তিন-চারটা খেয়ে নেন।তাহলে পেটের সমস্যা হতে পারে।

আমের সময় বলেই যে প্রচুর আম খেতে হবে এমন ভাবনা ঠিক না, শরীরের খেয়াল রেখে আম খাওয়াই ভালো।পেটের খেয়াল রাখতে হলে আম খেতে হবে।যাদের গ্যাসের সমস্যা তারা ভরা ফেটে আম খাবেন।আম খাওয়ার অন্তত কয়েক ঘন্টা আগে আম  ভিজিয়ে রাখতে হবে।আম সব সময় ঠান্ডা করে খাওয়াই ভালো।অনেকেই দুধ কিংবা দই এর সঙ্গে আম খান, সব সমান মিষ্টি নয় কিছু আমের পরিমাণ ওবেশি থাকে তাই এসবের সঙ্গে আম না খাওয়াই ভালো।

আমের উপকারিতা ও অপকারিতা 

পুষ্টিগুনে ভরপুর একটি ফল হল আম।আম অনেক সুস্বাদু রসালো এবং জনপ্রিয় একটি ফল যে কারণে আমকে বলা হয় আমের রাজা।আমরা অনেকেই সুস্বাদু ফলটির জন্য সারা বছর অপেক্ষায় করে থাকি আর আমের মৌসুমে আমরা সকলেই কমবেশি আম খেয়ে থাকি।

আমের পুষ্টিগুণ উপকারিতা সম্পর্কে আমরা খুব কম জানি।আমে এতো পরিমাণ পুষ্টি উপাদান আছে যা একটি আম খেলে সারাদিনের পুষ্টি চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ হয়।পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ছয় কোটি টন উৎপাদিত হয়।আমে অনেক ভিটামিন এ, বি, সি, ডি, ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি রয়েছে।


আমের উপকারিতা:

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: আমে ‍প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, বি, সি, ডি, ফাইবার,ক্যালসিয়াম থাকে যার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

ঘুমের সমস্যা: রাতে ভালো ঘুম না হলে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধের সঙ্গে একটি পাকা আম খান প্রতিদিন এক থেকে দুইটা আম খেলে ঘুমের সমস্যা দূর হবে।

দ্রুত ওজন বৃদ্ধি করে: আমে প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে যা মানুষের শরীরে ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।যারা রোগা পাতলা আছেন যদি ওজন বৃদ্ধি করতে চান।তাহলে প্রতিদিন দুই থেকে তিনটা পাকা আম খান তাহলে তাদের ওজন অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।

কাঁচা আমে ওজন কমায়: প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার আছে যা মোটা বলিজম বাড়িয়ে হজম ক্ষমতা বাড়ায়।কাঁচা আমের চিনির পরিমাণ খুব কম থাকে, যারা ওজন কমাতে চান আমের সময়ে কাঁচা আম খেলে অনেকটাই ওজন কমিয়ে যাবে।

হজমে সাহায্য করে: আমে ফাইবার থাকার কারণে হজম শক্তি ভালো হয় এবং বিভিন্ন ধরনের রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে: আমে অধিক মাত্রায় ভিটামিন এ, থাকার জন্য এটা চোখের ড্রইনেস বাড়িয়ে দেই।আমাদের রাতকানা রোগ থেকে মুক্তি দেয়।শরীরে ভিটামিন এর চাহিদা পূরণে আম বিশেষভাবে ভূমিকা পালন করে।প্রচুর পরিমাণে আম খেলে চোখ ভালো থাকে, এবং দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

রক্তস্বল্পতা দূর করে: যাদের রক্তস্বল্পতার সমস্যা রয়েছে প্রতিদিন এক গ্লাস আমের জুস খেলে রক্তস্বল্পতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ত্বক ভালো রাখে: আম খেলে ত্বক ভিতর থেকে উজ্জ্বল তা বাড়িয়ে দায়।ত্বকে আমের পেস্ট তৈরি করে সঙ্গে অল্প মধু আর দুধ মিশিয়ে ম্যাসাজ করুন ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ভালো করে ধুয়ে নিন মহিলাদের জন্য আমি প্রচুর পরিমাণ আয়রন এবং ক্যালসিয়াম অধিক মাত্রায় থাকে তাই মহিলাদের আম অবশ্যই খাওয়া উচিত।

আমের অপকারিতা: আমের উপকারিতা সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানলাম।এবার আমরা জানবো আমের অপকারিতা সম্পর্কে চলন জেনে নেওয়া যাক, আমে কি কি অপকারিতা রয়েছে যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের জন্য আম সেবন করা কোনভাবেই উচিত নয়।কারণ আমে অনেক সুগার রয়েছে যা কি না ডায়াবেটিস রোগীদের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।যাদের হজম শক্তিজনিত সমস্যা রয়েছে তারা বেশি মাত্রায় আম সেবন করবেন না।

খুব সীমিত মাত্রায় আম সেবন করবেন।সেই সাথে যাদের অ্যালার্জি রয়েছে আম খেলে এলার্জি বাড়ে তারা আগে আম খেয়ে দেখবেন, যদি অ্যালার্জি বাড়ে তাহলে আম খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।যদি বেশি মাত্রায় আম সেবন করেন তাহলে আপনার শরীরে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে আশা করছি আপনারা আমের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

আম খেলে এলার্জি বাড়তে পারে: কারণ আম অ্যালার্জি একান্ত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে সাধারণত আমে প্রোটিন লাটেক্স এর মত উপাদান রয়েছে।যাদের এলার্জি আছে তাদের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

ওজন কমাতে চান: যারা ওজন কমাতে চান তাহলে তারা বেশি আম খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।কারণ একসঙ্গে অনেকগুলো আম খেলে ওজন বাড়তে পারে।আমে ফাইবার কম প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ বেশি এবং ক্যালসিয়াম বেশি যা ওজন বাড়াতে পারে।

পেটের সমস্যা হয়: প্রচুর পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এজন্য যাদের আমাশয় বদহজম রয়েছে তারা যদি আমের পরিমাণ বেশি খায় তাহলে তাদের এসব সমস্যাগুলো বাড়তে পারে।

শিশুদের আম খাওয়ার উপকারিতা

আম অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সুস্বাদু আমের প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন খনিজ রয়েছে।প্রাকৃতিক চিনি এবং শর্করার একটি ভালো উপাদান যা আপনার বাচ্চাকে সারাদিন শক্তিশালী রাখবে।নরম ফল হয় এগুলো স্বতন্ত্রভাবে খাওয়ানো বা অন্য ফলের সাথে মেশানো সহজ।

শিশুদের আম খাওয়ানোর সময়: শিশুদের ৮ থেকে ১০ মাস হলে আমের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময়।কিন্তু শিশুদের সময় যখন ৬ মাস তখন থেকেই আম খাওয়ানো শুরু করা হয়।তবে আম খাওয়ানো কখন সেরা সময় এবং কি কারণে আম খাওয়ানো উচিত।সে বিষয়ে আপনার শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা ভালো।

আমে যা যা পুষ্টি রয়েছে: আমে আপনার শিশু প্রয়োজনীয় অনেকগুলো পুষ্টি সরবরাহ করে থাকে।আমের পুষ্টিগুণ ও উপকারি যেমন শক্তি ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিনএ, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন ই, ভিটামিন কে, পটাশিয়াম ইত্যাদি আমে রয়েছে।

হজম বাড়াতে সাহায্য করে: আমগুলো ফাইবার এবং হজমের এনজাইম গুলোকে সমৃদ্ধ করে।যার জন্য আপনার শিশু সহজেই হজম করতে পারবে কোষ্ঠকাঠিন্য ঝুঁকি থাকবে না।আমে প্রচুর পরিমানে প্রোটিনে থাকে।

চোখের জন্য উপকারী: আমে ভিটামিন এ, থাকে যা রাতকানা চোখের বিভিন্ন সমস্যা চুলকানি শুষ্কতা রাতের অন্ধকার সমস্যা গুলো সহায়তা করে।আমের সময় প্রতিদিন একটি আম আপনার দিনের এক চতাংশ ভিটামিন এ এর সহায়তা মেটাতে পারে।

মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য: উপকারী গ্লুটামিন অ্যাসিড যা আমের মধ্য উপস্থিত।একটি অ্যামইনো অ্যাসিড যা মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি ৬, এর পাশাপাশি এটি আরো ভালো স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্ককে উন্নত করে।

ত্বকের জন্য ভালো: আমে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ রয়েছে, যা শিশুদের দৃষ্টিশক্তি উন্নতির পাশাপাশি শিশুর ত্বকের জন্য ভালো এটি নরম ও উজ্জ্বল রেখে ত্বককে সুরক্ষা দেই।ত্বকে লাগানো হলে আমের শ্বাস বর্ণ গুলো ত্বক ভালো রাখতে সহায়তা করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: আমে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে।যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার জন্য অনেক বেশি প্রয়োজন এতে কারোটিন রয়েছে, যা প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো বাড়িয়ে তোলে।আমগুলো শরীরের বিভিন্ন ফাংশন উন্নত করে থাকে।যা জীবাণু গুলিকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

ওজন বাড়াতে সাহায্য করে: আমে ফ্যাট খুব কম থাকে তবে প্রচুর পরিমাণে ভালো ক্যালরি থাকে যা আপনার বাচ্চাকে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়াতে সহায়তা করে।

রক্তস্বল্পতা ঝুঁকি প্রতিরোধ করে: আমে প্রচুর পরিমাণে আইরন রয়েছে, প্রতিটি আমের কমপক্ষে প্রায় ০.৫ মিলি আয়রন থাকে যা রক্তকণিকা তৈরির জন্য প্রয়োজন এবং রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে ও সহায়তা করে।

শিশুকে আম খাওয়ানোর কিছু টিপস: ছয় মাসের শিশুকে কখনোই আম খাওয়াবেন না, ইতিমধ্যই অনেক কিছু খাওয়া শুরু করেছে এমন শিশুদের জন্য আম উপযুক্ত।শিশুকে আম খাওয়ানোর আগে এলার্জি আছে কিনা তা পরীক্ষা করান।প্রথম দিন শিশুকে আমের একটি ছোট টুকরা খাওয়ান এবং যেকোনো এলার্জির প্রতিক্রিয়ার জন্য লক্ষ্য করুন।আম খেয়ে যদি শিশুর এনার্জি হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

  • শিশুকে খাওয়ানোর আগে আম খুব ভালোভাবে ধুয়ে নিবেন এবং আম কাটার পরে কোন শক্ত আছে কিনা তা দেখে নিন।
  •  শক্ত আম থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখুন দীর্ঘ ফাইভার বদ হজম ও ডায়েরিয়ার কারণ হতে পারে এবং আমগুলো গলায় আটকে যাওয়া বাদ দম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে যা শিশুর পক্ষে কঠিন।
  • আম খাওয়ানোর আগে ভালোভাবে দেখে নিন যে আম পাকা কিনা কাঁচা আম কখনোই শিশুদের খাওয়ানো যাবে না, শিশুর পেটের ব্যথার কারণ হতে পারে আবার হজমে ও সমস্যা হতে পারে।
শিশুদের জন্য যেভাবে আম বেছে নিবেন না: শিশুদের আম খাওয়ানোর আগে আম বাছাই করে নিবেন।সেগুলো অবশ্যই স্পর্শ করে যেগুলো সুন্দর ও সুগন্ধের হবে সেগুলো নেবেন, এটি হলো পাকা আমের গুণ।এবং দ্বিতীয়ত ক্ষতির জন্য যেমন কাটা ক্ষত এবং দাগের সন্ধান করুন।কত ফলের ভিতরে ছিদ্র পচা ও হতে পারে যা বাহির থেকে দেখে বোঝা যায় না এসব ক্ষত আমি পোকা ও থাকতে পারে।আমটি চেপে ধরলে কিছুটা নরম লাগা উচিত এবং দৃঢ় হতে হবে বেশি তুলতুলে যেন না হয়।

আমের পুষ্টিগুণ ও উপকারি

আম একটি সুমিষ্ট ফল আমি আছে অসংখ্য উপকারিতা।আমি প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ ভিটামিন উপাদান যেমন ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি ৬ রয়েছে এছাড়া ও পটাশিয়াম, এমাইনো এসিড, আলফা ক্যারোটিন রয়েছে যা আরও অনেক বিশেষ উপাদান।এটি খাওয়া যায় নানা ভাবে কাঁচা অবস্থায় আম আচার, চাটনি, ইত্যাদি তৈরি করা যায়।পাকা আম খেতেও সুস্বাদু, তবে এটি দিয়ে তৈরি করা যায় আমসত্ত্ব, জুস, পুডিং, কেক ইত্যাদি মজার খাবার আমতো খাবেন, তবে তার আগে এর পুষ্টি  গুণ ও উপকারিতা জেনে রাখা জরুরি।



  • আম খেলে হৃদরোগ ভুলে যাওয়া সমস্যা ইত্যাদি রোগ দূরে থাকে আমি প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম রয়েছে যা শরীরের ঘাটতি পূরণ করে।
  • আমে অনেক গ্লুটামিক এসিড জাম মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সতেজ রাখে।
  • আমে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে যা ঠান্ডা জনিত সমস্যা দূর করে।
  • আমে প্রচুর আশ থাকাই হজম প্রতিক্রিয়াকে উন্নত করে কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যা এড়াতেও আম সমান উপকারী।

পাকা আমের অপকারিতা

পাকা আমে চিনির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে।তাই পাকা আম খাওয়ার ফলে রক্তের গ্লুকোজ এর মাত্রা বেড়ে যায় যে কারণে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বেশি আম খাওয়া ক্ষতি করে।যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তারা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পাকা আম খাবেন।পাকা আমে প্রায় তিন গ্রাম ফাইবার থাকে।আমের পুষ্টিগুণ ও উপকারি অনেক

যে কারণে কিছুটা বিরত নিয়ে আম খাওয়া উচিত।পাকা আমের পুষ্টি মানের পরিমাণ নষ্ট হয়ে যায় প্রায় সকল পরিমাণে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়।এবং মিথানল উপস্থিতির কারণে ও প্রয়োজনীয় ক্ষতি হতে পারে।বেশি পাকা আম খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে যেমন পেট ব্যথা, বমি, পেটে গ্যাসের সমস্যা এবং মুখের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।

কাঁচা আমের উপকারিতা ও অপকারিতা

মে মাসের শুরুতে বাজারে কাঁচা আম পাওয়া যায়।তীব্র গরমে কাঁচা আমের স্বাদ আমাদেরকে এনে দেয় স্বস্তি।কাঁচা আমের শরবত,চাটনি,আম দিয়ে ভর্তা,আরো অনেক পথ তৈরি করে খাওয়া যায়। শুধু স্বাদ নয় কাঁচা আম স্বাস্থ্যের জন্য দারুন উপকারী।কাঁচা আমের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে অনেকেই হয়তো জানেন না।তাই কাঁচা আমের গুণাবলী জানাবো আজ।

কাঁচা আমের উপকারিতা:

কাঁচা আম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াই: কাঁচা আমের ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, কাঁচা আম নানাভাবে শরীরের জন্য উপকারী।শরীরের বৃদ্ধি হতে সহায়তা করে।ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে,  যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের জন্য কাঁচা আম বিশেষভাবে উপকারী।এছাড়া আম লিভার ভালো রাখে।কাঁচা আম চিবিয়ে মুখের স্বাদ পায় কাঁচা আম শরীরের জীবাণু সংক্রমণ দূর করতেও সাহায্য করে।

কাঁচা আম শরীর ঠান্ডা রাখে: গরমে এবং রোদের তাপের কারণে শরীর ঠান্ডা রাখা একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়।অনেক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন,আম স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে আনে।কাঁচা আম আমাদের শরীরে সোডিয়াম ও আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতেও দারুন কার্যকরী।এতে থাকা পটাশিয়াম শরীরের ভিতরে থেকে ঠান্ডা রাখতে কাজ করে।ফলে ঘাম কম হয় ক্লান্তিও কম আসে।যারা বুক জ্বালা পুড়ায়, বমি ভাব, সমস্যায় ভুগছেন।তারা এই আমের সময় আম খেতে পারেন।

কাঁচা আম ওজন কমাতে সাহায্য করে: যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্য উপকারী হতে পারে কাঁচা আম।পাকা আমের চেয়ে কাঁচা আমের ক্যালোরি অনেক কম থাকে, যে কারণে ওজন কমানো সহজ হয়।খাবারে হজম করতে সাহায্য করে কাঁচা আম, কোষ্ঠকাঠিন্য বদহজম অ্যাসিডিটি সমস্যা দূর করে এ কাঁচা আম।

কাঁচা আম ত্বক ও চুল ভালো রাখে: কাঁচা আম ত্বক ও চুল ভালো রাখে।গরমে ঘামের কারণে,  আমাদের শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণ সোডিয়াম বের হয়ে যায়।আপনি যদি কাঁচা আমের জুস তৈরি করে খান, তাহলে তার মধ্যে এই ঘাটতি দূর করা সম্ভব হতে পারে, কাঁচা আমে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট টক ও চুলের উজ্জ্বলতা বজায় রাখে।

কাঁচা আম ঘামাচি দূর করে: গরমের সময় অতিরিক্ত ঘাম ও ঘামাচির সমস্যায় কমবেশি আমরা সবাই ভুগি।অনেক সময় অতিরিক্ত গরম ও ঘামের জন্য শরীরে র‌্যার্শ ও এলার্জি হয়।কাঁচা আম খেলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।কারণ কাঁচা আমে থাকা কিছু উপকারী উপাদান ঘামাচি থেকে বাঁচাতে আমাদের সাহায্য করে।তবে কাঁচা আম অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না।

কাঁচা আমের অপকারিতা: আমরা যদি কোন কিছু অতিরিক্ত বেশি পরিমাণে খায়, যেমন ক্ষতি হয় ঠিক।তেমনি কেউ যদি অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা আম খেয়ে থাকে এতে তার শরীরে প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকর দিক দেখা দিবে।তাই অতিরিক্ত কাঁচা আম খাবেন না এতে আপনার শরীরে জন্য প্রচুর ক্ষতিকর এবং পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

লেখক এর মন্তব্য

প্রিয় পাঠক আশা করছি আপনি আমের পুষ্টিগুণ ও উপকারি, আম খাওয়ার নিয়ম, পাকা আমের উপকারিতা কাঁচা আমের উপকারিতা ও অপকারিতা, আমের উপকারিতা ও অপকারিতা এবং বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরে উপকৃত হয়েছেন।

আমার আর্টিকেলটি পরে যদি আপনি উপকৃত হন তাহলে আপনি আপনার বন্ধু বান্ধবের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আশা অনলাইন শপ নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url