৫টি মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায় জেনে নিন

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে হয়তো বা আপনি অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সঠিক উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না টেনশনের কোন কারণ নেই। এবং শরীর ও মন ভালো রাখার উপায় গুলো জানতে অবশ্যই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।


এখানে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টপিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যেমন মানসিকভাবে ভালো থাকার উপায় সহ বেশ গুরুত্বপূর্ণ আরও বেশ কয়েকটি টপিক রয়েছে। সেগুলো বিস্তারিতভাবে জানতে হলে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

ভূমিকা

প্রিয় পাঠক আজকাল আমরা, শরীল মন ভালো থাকার উপায় ও সুস্থ থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু আমরা সঠিক নিয়ম কানুন গুলো জানিনা, মন খারাপ থাকলে আমরা হতাশ হয়ে পড়ি, আমরা কখনো মনটা ভালো করার চেষ্টাই করি না আর হতাশা নয়।এজন্য আমি আজ কিভাবে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায়, এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল সম্পর্কে আলোচনা করব।

মানসিকভাবে ভালো থাকার উপায়

আমাদেরকে মানসিকভাবে ভাল বা সুস্থ থাকতে থাকতে হলে, শারীরিক সুস্থ থাকা ও খুব গুরুত্বপূর্ণ মানসিক ও শারীরিক সুস্থ থাকলে নিজেকে আনন্দময় ও আশেপাশের মানুষকেও আনন্দে বা হাসিখুশি রাখা যায়।যে কারো জীবনে অনেক সমস্যা দুঃখ দুর্দশা হতাশা কালো ছায়া ও বাসা বাঁধতে পারে।তাই বলে কি আমরা জীবনের পথচলা থেমে দিব না কখনোই না, আমাদেরকে ঘুরে দাঁড়াইতে হবে এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায় জীবনের প্রতিটা পর্যায়ে একে অপরের পরিপূরক।
মানসিকভাবে ভালো থাকতে আমাদের যা যা করনীয় নিচে আলোচনা করা হলো:

নিজের যত্ন নিতে হবে: শরীর সুস্থ রাখতে যেমন ঘুমের প্রয়োজন তেমন মন ভালো রাখতে ও আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাইতে হবে।আমাদের ঘুম না হলে শরীর ও মন মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠে তাই প্রয়োজন আমাদের সুস্থ থাকতে হলে আমাদেরকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাইতে হবে।

পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে: পুষ্টিকর খাবার শুধু শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয় মনের জন্য উপকার কারি পুষ্টিকর খাবার না খেলে আয়রন ভিটামিন ইত্যাদির ঘাটতি শরীরে থাকে।এই জন্য আমাদের মেজাজ খিটখিটে থাকে এজন্য প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া।

পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে: নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।নিজেকে মানসিক ভাবে ভালো রাখতে হলে আমাদের উচিত নিয়মিত ব্যায়াম করা।ব্যায়াম করার ফলে শরীরের ক্লান্তি ভাব ও মানসিক চাপ কম হয়।এবং মন ভালো রাখে তাই উচিত সকাল বা বিকেলটায় সময়ে আমাদের ব্যায়াম করতে হবে।

আমাদের শখের কাজগুলো করতে হবে: মন ভালো রাখতে এবং আমাদের শখের কাজগুলো করতে হবে।আপনাদের যা যেমন কাজ পছন্দ বা করতে ভালোবাসেন সেগুলো করতে হবে।যখন আমরা কাজের ভিতরে থাকি তখন মানসিক টেনশন বা কোন দুশ্চিন্তা আমাদের মনে বাসা বাঁধতে পারে না।তাই যখন আমাদের মন খারাপ হবে বা মানসিক টেনশন আসবে,আমাদের শখের কাজগুলো করতে হবে।যেমন-বই পড়া, সেলাই মেশিনের সেলাই করা, গান করা ইত্যাদি।

নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে: নিজের দুর্বলতা গুলোকে মেনে নিয়ে নিজের ক্ষমতার উপর বিশ্বাস রাখা উচিত।আমরা কেউই নিখুঁত না, অন্যের সাথে নিজেকে কখনো তুলনা করা যাবে না।নিজের দুর্বলতা গুলো নিয়ে ভাবা বা চিন্তা করা বোকামির কাজ।এতে করে হতাশা বিষন্নতা বৃদ্ধি পায়।এজন্য নিজের দুর্বলতা গুলোকে মেনে নিয়ে বা দূর করার জন্য নিজের প্রতি নিজেকে বিশ্বাস বাড়াতে হবে।

ধুমপান ও মদপান করা যাবে না: আমরা অনেকেই দুশ্চিন্তা বা হতাশার সময় ধুমপানও মাদকের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ি, তবে এসব হতাশা কাটায় না বরং শরীর ও মনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত মদ্যপানের জন্য শরীরের বিভিন্ন ঘাটতি তৈরি হয় মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যায়।

এসব ঘাটতি দেখা দিলে স্মৃতি মনোযোগের অভাব বিভ্রান্তি ও চোখে সমস্যা হতে পারে।আবার যদি ধূমপান করেন এতে থাকা নিকোটিন শরীর ও মস্তিষ্কের উভয়ের ক্ষতি করে ধূমপান বন্ধ করে দিলে মেজাজ আরো খিটখিটে ও বিরক্ত লাগে।তাই আমাদের উচিত ধূমপান ও মাদকাসক্তি থেকে বিরত থাকা এবং মাদক মুক্ত জীবন গড়তে হবে।

লেখালেখি করা: আমাদের দৈনন্দিত জীবনে দুশ্চিন্তা শেষ নেই, আমাদের দুশ্চিন্তাগুলোর একটা তালিকা তৈরি করতে হবে।এরপর তার সমাধানের জন্য উপায় খুঁজতে হবে।অযথা কল্পনায় ডুবে থেকে থাকলে তা সমস্যার সমাধান কখনোই হবে না।যখন দেখবেন আপনার ঘুম হচ্ছে না তখন আপনি খুব বেশি দুশ্চিন্তা করতেছেন।

মানুষের পাশে দাঁড়ান: আমরা যখন কাউকে সাহায্য করি তখন নিজের মধ্যে একটা ভালো লাগার কাজ করে।আমাদের সমাজে অনেক দরিদ্র মানুষ আছে যারা পোশাক বা খাবার পাচ্ছে না।তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে নিজের অর্থ দিয়ে সাহায্য করতে হবে দেখবেন আপনার মন ভালো হয়ে যাবে তখন কোন দুশ্চিন্তা বা হতাশা আসবে না।

তখন আমাদের গরিব ও অসহায় মানুষদের ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠবে।ফলে অন্যের জন্য কিছু করার মনোভাব জন্মাবে এর মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ পাবেন।আপনি যখন মানসিকভাবে অসুস্থ বোধ করবেন তখন অন্যকে সাহায্য করেন মুখ বুঝে থাকবেন না।নিজের অসুবিধা কথা অত্যাধিক মানসিক চাপে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেতে পারেন মনে করতে পারে।

দ্রুত মন ভালো রাখার উপায়: ধ্যান করুন ধানের মাধ্যমে মনকে প্রশমিত করা যায়।আমাদের মন একসঙ্গে অনেক কিছু চিন্তাভাবনা করতে থাকে।আমরা যখন ধ্যান করব তখন মনোযোগ একটি বিষয়ে দেওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়ে যাবে।

একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ করা যাবে না: আমরা যখন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করব তখন ফেসবুক ইমেইল ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি একসঙ্গে করব না।এতে আমাদের মস্তিষ্কে অনেক চাপ তৈরি হয় আমাদের মস্তিষ্ক এর সঙ্গে একাধিক কাজ করার জন্য তৈরি হয় নাই।

সকাল ও বিকেল প্রকৃতির কাছে যান: সকালে যখন আমরা প্রকৃতির সৌন্দর্য কাছে যাই,তখন আমাদের মস্তিষ্কে ইতিবাচক কাজ করে এবং সকালের হাঁটাহাঁটি শরীরের জন্য অনেক উপকারী প্রকৃতির ছবি দেখলে ভালো থাকে।

সহজ বিষয়ই দিয়ে শুরু করুন: যেকোনো কাজের সময় সহজ বিষয় নিয়ে কাজ করেন।যেমন পড়াশোনার সময় সহজ বিষয় নিয়ে শুরু করেন এতে গতি চলে এলে কঠিন কাজও সহজ মনে হয়ে যাবে।

পরিমিতি ঘুমান: কম ঘুম আমাদের শরীরের জন্য ভালো না আবার বেশি ঘুমও আমাদের ক্ষতি করে ফেলে তাই।আমাদের উচিত পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে এবং ঘুমের জন্য শারীরিক পরিশ্রম অত্যাধিক জরুরী।নিজের কাজগুলো লিখে রাখুন বর্তমান ভুলে যাওয়ার সমস্যা ইদানিং প্রায় সবাইকে ভোগাচ্ছে।তাই আমাদের উচিত কিছু শোনা ও পড়ার পর তার ডাইরিতে লিখে রাখা।লিখে রাখলে মনোযোগ অন্য কিছুতে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।

হাসতে হবে: আমাদের উচিত মন ভালো রাখতে বা শরীর ভালো রাখা মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায় এর জন্য প্রচুর হাসতে হবে, দেখা যাচ্ছে হাসার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই।তবুও চেষ্টা করবেন হাসার জন্য হাসি আমাদের চাপ কমাতে সাহায্য করে মেজাজ ভালো রাখে বিষন্নতা থেকে দূর করে।তাই প্রচুর পরিমাণে হাসতে হবে নিজেকে ভালো রাখতে হলে।

অন্যকে সাহায্য করুন: মন ভালো রাখতে হলে মানুষকে সাহায্য করুন।পরিবারের লোকেদের কাজে সাহায্য বা পাড়া-প্রতিবেশী দরিদ্র মানুষদের সাহায্য করুন।কাজের মধ্যে থাকলে মানুষের মন ও শরীর ভালো থাকে।

মন ও শরীর ভালো রাখতে হবে: নিজের বাড়ি বা অফিস সব সময় পরিষ্কার রাখুন, এবং জামা কাপড় বই সবই নিজের জায়গায় রাখুন।পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সবসময় মনকে ভালো রাখে।

নতুন কিছু করুন: নেতিবাচক ভাবনা থেকে বেরিয়ে যান।নতুন কিছু করন যেমন- জিমে ভর্তি হন রান্না ক্লাসে ভর্তি হন।নাচ শিখুন আগামীকাল সকালে উঠে নতুন কি করবেন তা পরিকল্পনা করে রাখুন।

শরীর ও মন ভালো রাখার উপায়

বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীর ও মন সুস্থ রাখা, ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায়।শরীর ও মন একে অপরের পরিপূরক একটা যদি অসুস্থ থাকে  আরেকটি ও ভালো থাকে না,এটি সাধারণত আবেগ নানা কারণে আমাদের মন খারাপ হয়ে থাকে।মন খারাপ থাকলে নিজেকে ভালো লাগেনা, আশেপাশের মানুষজনকে ও ভালো লাগে না তাই আমাদের উচিত হাসিখুশি থাকা নিজেকে সুস্থ রাখা।

নিজের মন ভালো রাখতে কয়েকটি উপায় অবলম্বন করতে হবে:

রুটিন মেনে চলা: দৈনন্দিত জীবনে মন ভালো রাখতে হলে,প্রতিদিন একটা রুটিন মেনে চলতে হবে। আপনাকে সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা নিয়ে জানালার পাশে বা রোদে গিয়ে দাঁড়াতে পারেন। এতে আপনার শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি পাবে।সূর্য লোকে এমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে যা মানসিক ভাবেও শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে।এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিছু করা উচিত সময় মত যারা প্রতিদিন রুটিন অনুযায়ী কাজ করে।তাদের শরীর ও মন দুটি ভালো থাকে।আমাদের উচিত শরীর ও মন ভালো রাখার জন্য রুটিন মেনে চলা।

পছন্দের মানুষের সাথে সময় কাটান: সাধারণত মানুষের যখন মন খারাপ থাকে, তখন তারা তাদের পছন্দের মানুষদেরকে এড়িয়ে চলে।এটা কখনোই করা যাবে না,ভুলেও বলবেন না।আমাদের মন খারাপ হলে একটু একা থাকতে চাই।তখন সম্ভব হলে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কথা বলুন তার হাত স্পর্শ করন দেখা করা সম্ভব না হলে মোবাইলে কথা বলুন।

আপনার মন কেন খারাপ কতটা খারাপ তা প্রিয় মানুষটার সঙ্গে শেয়ার করুন।কথা বলার পর দেখবেন হালকা লাগছে নিজেকে অনেক।এজন্য যখন মন খারাপ করবে তখন প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটান দেখবেন অনেক ভালো লাগবে।

হাসি: মন ভালো রাখার সবচেয়ে কার্যকরী ঔষধ হিসেবে পরিচিত হাসি।শতশত মন খারাপের পরেও প্রাণ খুলে হাসলে দুঃখ গুলু ভুলে যাওয়া যায়।গবেষণা করে গবেষকরা বলেছে শুধু মন নয় শরীর কেউ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে প্রাণ খুলে হাসি।এছাড়াও এটি রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

গান: হঠাৎ যদি কখনো মন খারাপ হয় তাহলে গান শোনুন।গান মানুষের মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।আবার গানের তালে তালে চাইলে একটু নাচতেও পারেন।পছন্দের কোন গান শুনলে মুহূর্তেই আপনার মন ভালো হয়ে যেতে পারে।মনে পড়তে পারে সুখের কোন স্মৃতি গবেষণা করে গবেষকরা বলেছেন গান মন ভালো রাখার পাশাপাশি মানুষ ও শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দূর করে।

লেখালেখি করা: আপনার ডাইরিতে লিখতে পারেন মজার কোন স্মৃতি।যদি লিপস্টিক পছন্দ করেন ঠোঁটকে একটু রাঙ্গিয়ে নিতে পারেন,রান্না যদি শখ হয় তাহলে করে ফেলুন মজার কোন রেসিপি যা পরিবারের সকলকে রান্না করে তাদের খাওয়ান।অন্যকে খাওয়ানোর মাঝেও মনে শান্তি পাওয়া যায়।

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায়

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায় এর জন্য আমাদের শরীর ও মন ভাল রাখতে হবে।কারণ শরীর যদি ভালো না থাকে, তাহলে আমাদের মন ও ভালো থাকবে না।কেউ যখন অসুস্থ হয় অসুস্থতার কথা শুনে অনেকে দেখতে আসে অনেক খাবার নিয়ে আসে কিন্তু আমাদের মন খারাপ হলে কাউকে বলা যায় না।বললেও হেসে উড়িয়ে দেয়।


মন খারাপ থাকলে আপনাকে বিষন্নতা গ্রাস করে নেবে।আমরা চোখে দেখতে পায় না মন খারাপ।কর্মব্যস্ততার জীবনে সবারই মধ্যেই বাড়ছে চাপ ও উদ্বেগ।দীর্ঘদিন এভাবে একা থাকতে থাকতে মানসিক স্বাস্থ্য অবনতি করছে।আমাদের উচিত মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে ১৫টা উপায় মেনে চলতে হবে।

নিজের যত্ন নিতে হবে: শরীর সুস্থ রাখতে যেমন ঘুমের প্রয়োজন তেমন মন ভালো রাখতে ও আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাইতে হবে আমাদের ঘুম না হলে শরীর ও মন মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠে তাই প্রয়োজন আমাদের সুস্থ থাকতে হলে আমাদেরকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাইতে হবে।

পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে: পুষ্টিকর খাবার শুধু শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয় মনের জন্য উপকার কারি পুষ্টিকর খাবার না খেলে আয়রন ভিটামিন ইত্যাদির ঘাটতি শরীরে থাকে এই জন্য আমাদের মেজাজ খিটখিটে থাকে এজন্য প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া।

নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে: নিজেকে মানসিক ভাবে ভালো রাখতে হলে আমাদের উচিত নিয়মিত ব্যায়াম করা ব্যায়াম করার ফলে শরীরের ক্লান্তি ভাব ও মানসিক চাপ কম হয় এবং মন ভালো রাখে তাই উচিত সকাল বা বিকেলটায় সময়ে আমাদের ব্যায়াম করতে হবে।

আমাদের শখের কাজগুলো করতে হবে: মন ভালো রাখতে হলে আমাদের শখের কাজগুলো করতে হবে আপনাদের যা যেমন কাজ পছন্দ বা করতে ভালোবাসেন সেগুলো করতে হবে যখন আমরা কাজের ভিতরে থাকি তখন মানসিক টেনশন বা কোন দুশ্চিন্তা আমাদের মনে বাসা বাঁধতে পারে না তাই যখন আমাদের মন খারাপ হবে বা মানসিক টেনশন আসবে তখন আমাদের শখের কাজগুলো করা যেমন বই পড়া সেলাই মেশিনের সেলাই করা গান করা ইত্যাদি।

নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে: নিজের দুর্বলতা গুলোকে মেনে নিয়ে নিজের ক্ষমতার উপর বিশ্বাস রাখা উচিত আমরা কেউই নিখুঁত না অন্যের সাথে নিজেকে কখনো তুলনা করা যাবে না নিজের দুর্বলতা গুলো নিয়ে ভাবা বা চিন্তা করা বোকা মেয়ের কাজ এতে করে হতাশা বিষন্নতা বৃদ্ধি পায় এজন্য নিজের দুর্বলতা গুলোকে মেনে নিয়ে বা দূর করার জন্য নিজের প্রতি নিজেকে বিশ্বাস বাড়াতে হবে।

ধূমপান ও মাদক পরিহার করতে হবে: আমরা অনেকেই দুশ্চিন্তা বা হতাশার সময় ধুমপান ও মাদকের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ি।তবে এসব হতাশা কাটায় না বরং শরীর ও মনে বিরূপ প্রভাব ফেলে অতিরিক্ত মদ্যপানের জন্য শরীরের বিভিন্ন ঘাটতি তৈরি হয়।মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যায় এসব ঘাটতি দেখা দিলে স্মৃতি মনোযোগের অভাব বিভ্রান্তি ও চোখে সমস্যা হতে পারে।আবার যদি ধূমপান করেন এতে থাকা নিকোটিন শরীর ও মস্তিষ্কের উভয়ের ক্ষতি করে ধূমপান বন্ধ করে দিলে মেজাজ আরো খিটখিটে ও বিরক্ত লাগে।তাই আমাদের উচিত ধূমপান ও মাদকাসক্তি থেকে বিরত থাকা এবং মাদক মুক্ত জীবন গড়তে হবে।

দুশ্চিন্তা করা যাবে না: আমাদের দৈনন্দিত জীবনে দুশ্চিন্তা শেষ নেই আমাদের দুশ্চিন্তাগুলোর একটা তালিকা তৈরি করতে হবে এরপর তার সমাধানের জন্য উপায় খুঁজতে হবে অযথা কল্পনায় ডুবে থেকে থাকলে তা সমস্যার সমাধান কখনোই হবে না যখন দেখবেন আপনার ঘুম হচ্ছে না তখন আপনি খুব বেশি দুশ্চিন্তা করতেছেন।

সুস্থ থাকার জন্য করণীয়

আমাদের দৈনন্দিত জীবনের সুস্থ থাকতে চায় সবাই। আমরা কাজের ব্যস্ততায় নিজেদের যত্ন নিতেই ভুলে যাই খাবারের অনিয়ম ঘুমের অনিয়ম ক্লান্তি সব মিলিয়ে আমাদের শারীরিক অবস্থা ভালো থাকে না।তবে যদি আমরা একটু সচেতন থাকা আর কিছু নিয়ম মেনে চলি তাহলে আমরা ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সেও আমরা ফিট সুস্থ থাকতে পারবো।


  • শরীর সুস্থ রাখতে হলে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হাটাহাটি করা। প্রথম প্রথম যদি কষ্ট বা সম্ভব না হলে দশ মিনিট করে হাঁটতে পারেন না। এবং পাশাপাশি খেলাধুলা চাইল চালানোর সাঁতার কাটা বায়া ইত্যাদি।
  • শরীর সুস্থ রাখতে হলে খাদ্য তালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখল যেমন শাকসবজি মাছ দুধ ডিম বাদাম লাল রুটি ইত্যাদি ফল শাক-সবজি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • খাবারের তালিকায় চর্বি জাতীয় খাবার কম রাখুন।পাশাপাশি পানির পরিমাণ বেশি পান করুন।
  • শরীর সুস্থ ও বাঁচতে হলে অবশ্যই আপনাকে ধূমপান না বলতে হবে ধূমপান স্বাস্থ্যর জন্য খুব ক্ষতিকর ধূমপানের জন্য স্টক হয় কাজে সুস্থ থাকতে ধূমপান পরিহার করার বিকল্প নেই।
  • উচ্চতা অনুযায়ী আপনার ওজন যদি বেশি হয়ে থাকে তাহলে আপনার সুস্থতার জন্য ওজন কমানো খুব গুরুত্বপূর্ণ।দ্রুত খাবার খেলে ওজন বেড়ে যায় তাই ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাবার খান না।
  • ব্যাস্ত থাকলে শরীর ও মন দুটোর পক্ষে ভালো, তাই কাজ আছে কাজে যতটা সম্ভব ব্যস্ত থাকুন।
  • শরীর ও মন ভালো রাখতে সপ্তাহে একদিন রোজা রাখুন এবং শরীরের খাবারের সমতা বজায় রাখুন।
  • চেষ্টা করবেন সোজা হয়ে বসে থাকার।
  • শরীর ও মনের পাশাপাশি আপনাদের মুখের স্বাস্থ্য ও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মুখে অবহেলা করলে তাদের সমস্যা এবং মায়ের রোগ হতে পারে।দাঁত ভালো থাকলে নিউমোনিয়া অস্বাস্থ্যকর গর্ভাবস্থা অ্যালজাইমার ঝুঁকি কমায়।
  • শরীর সুস্থ রাখতে হলে মিষ্টি থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন।
  • যা অনেকেই বর্তমান ফাস্টফুড খেতে ভালোবাসেন।এই খাবারগুলো শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর।এতে অধিক পরিমাণে ক্যালোরি থাকে।তাই ফাস্টফুড বা বাহিরের খাবার খাওয়া থেকে এড়িয়ে চলুন।ওজন কমাতে চাইলে অবশ্যই বাহিরের খাবার খাওয়াগুলো বন্ধ করুন।
  • শরীর ও মন স্বাস্থ্য ভালো থাকতে হলে নিয়ম মত ঘুমাতে হবে।ঘুম না হলে শরীরে অনেক রোগ বাসা বাঁধতে পারে।ঘুম না হলে রাতে কপি খাওয়া, রাত পর্যন্ত জেগে থাকা বন্ধ করুন।

শরীর সুস্থ রাখার খাবার তালিকা

শরীর সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।উপকার পেতে হলে সঠিক পদ্ধতি মেনে খাবার খাওয়া জরুরী।তাতে সময় ও পরিশ্রম কোন কিছুই বিফলে যাবেনা। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায় এর জন্য, পেঁয়াজ, পালং শাক, কলা,ডাল, তেল যুক্ত মাছ, তিল, তিসি, দুধ এবং দই, পানি, মাছ, ফল, ডিম, টমেটো এবং আলু ইত্যাদি।

দুধ এবং দই: দুধ ও দই শরীরের ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণে সাহায্য করে এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী অনেক।

ফলও সবজি: প্রতিদিন বিভিন্ন রঙের ফল এবং সবজি খাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ সবজিও ফলে ফাইবার ভিটামিন রয়েছে যা শরীরের জন্য খুব উপকারী।

টমেটো ও আলু: টমেটো আলু হার্টের জন্য খুব উপকারী।টমেটো আলুতে প্রচুর পটাশিয়াম লাইকোপেন।পটাশিয়াম আমাদের শরীরের রক্ত লাল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।লাইকোপেন রয়েছে আন্টি এক্সিডেন্ট যা রোগ প্রতিরোধ করে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকে কমায়।

ডিম: খেলে বুদ্ধি বাড়ে স্মৃতিশক্তি ভালো হয় ডিম চোখের জন্য খুব উপকারী শুধু ডিম নয় চোখের জন্য ভোট্টা গাজর খান আপনার চোখ বেশ ভালো থাকবে।দৃষ্টি শক্তি প্রখর হবে।

মাছ: শরীর ঠিক ওমস্তিষ্ক ঠিক রাখতে হলে মাছ খেতে হবে মাছে রয়েছে অনেক পুষ্টি উপাদান মাছ খেলে মানসিক চাপ ও মস্তিষ্কের প্রদাহ দূর করে চিন্তায শক্তি প্রখর করে।

বাদাম: সকালের নাস্তায় একমত বাদাম খাওয়া খুব উপকারী।বাদাম শুধু হজম উন্নতি করে না আপনার পেটের পিএইচ স্তরকে স্বাভাবিক করে তোলে।প্রতিদিন কিসমিস বাদাম পেস্তা এগুলো পরিমিত ভাবে খাওয়া উচিত।অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ওজন বাড়তে পারে।বাদাম অনেক পুষ্টিকর আপনার মন ভাল করার পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

শরীর দুর্বল হলে করণীয়

আমরা সকলেই মনে করি সকালটা খুব সুন্দর হবে।বিভিন্ন কারণে শরীর দুর্বল হতে পারে।শরীর দুর্বলতা থেকে রক্ষা পেতে হলে সঠিক সময় সঠিক খাবার খাওয়া সকলেরই উচিত।কারণ অসময়ে অপুষ্টিকর খাবার খেলে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।এছাড়াও বিভিন্ন রোগ আমাদের শরীরে দেখা যেতে পারে তাই আমাদের শরীরে ভালো রাখার জন্য পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।খাবারের সবজির মধ্যে আমরা গাজর মিষ্টি কুমড়া রাখতে পারি এসব খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।এবং খুব তাড়াতাড়ি শরীরের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠবে।


কলা খেতে পারেন: কলা তে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি গ্লুকোজ যা খুব দ্রুত আমাদের দেহি শক্তি যোগায়।তাছাড়া কলাতে রয়েছে পটাশিয়াম শক্তি বৃদ্ধি করে কলার ফাইবার উপাদান আমাদের দেহের রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ রাখে।শরীর যখন খারাপ লাগবে তখন এক থেকে দুইটি কলা খেয়ে নিন আপনারা চাইলে কলার জুস ও বানিয়ে খাইতে পারেন।আপনারা চাইলে কলার সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন না।

দুধ খেতে পারেন: শরীর সুস্থ রাখতে হলে দুধ আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন রয়েছে দুধে।দুধে প্রচুর ক্যালসিয়াম উপাদান রয়েছে যা দেহের হার মজবুত রাখে শরীর খারাপ লাগলে এক গ্লাস দুধের সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।

ডিম খেতে পারেন: শারীরিক দুর্বলতা দূর করতে প্রতিদিন একটি করে ডিম খান।ডিমের রয়েছে প্রোটিন আয়রন ভিটামিন এ।যা দেহের জন্য খুব উপকারী।

হাসতে পারেন: শরীর দুর্বল হলে করণীয় কাজগুলোর মধ্যে একটি হল হাসি।৩০মিনিট প্রাণ খুলে হাসলে সারাদিনের এনার্জি যোগাতে অনেক সাহায্য করবে।

পানি পান করতে পারেন: প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত শরীল ক্লান্তি হলে একবার দুই গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করুন।

বাদাম খেতে পারেন: শরীল ভালো ও সবার রাখতে প্রতিদিন নিয়ম করে বাদাম খেতে পারেন।বাদামে রয়েছে পরিমাণ মতো ম্যাগনেসিয়াম এবং ফোলেট।আপনার শরীরে পুষ্টির অভাব আপনাকে ক্লান্ত করতে পারে।এজন্য বাদাম বা চীনাবাদাম খেলে ক্লান্তি ভাব কমে আপনার শরীর সুস্থ হবে।

লেখক এর শেষ মন্তব্য

আমি আর্টিকেলে যত পয়েন্ট বলেছি তার মধ্য শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায়,শরীর ও মন ভালো রাখার উপায়।আমাদেরকে স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে, হাসতে হবে, ব্যায়াম করতে হবে এবং আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।

আপনার এই আর্টিকেলটি পরে যদি ভালো লাগে এবং উপকার পেয়ে থাকেন।অবশ্যই আপনার পরিচিতি বন্ধু-বান্ধবদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আশা অনলাইন শপ নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url