আম আর দুধ খেলে কি হয়-আম দুধের উপকারিতা জেনে নিন
আম আর দুধ খেলে কি হয় আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না। এবং জানার জন্য সঠিক তথ্য খোঁজাখুঁজি করে পাচ্ছেন না। টেনশন এর কোন কারণ নেই। আজকে আমি আলোচনা করব বিস্তারিতভাবে জানতে হলে আমার এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পডুন।
বর্তমানে এখন আমের সময় আমরা আম কম বেশি সবাই পছন্দ করি আমি অনেক পুষ্টি ও ফাইবার
রয়েছে। আম ও দুধের উপকারিতা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে আমের গুরুত্বপূর্ণ টিপস নিয়ে আলোচনা করবো।
আম আর দুধ খেলে কি হয়
আমরা দৈনন্দ জীবনে যে খাবারই খাই না কেন তার প্রভাব আমাদের শরীরে পড়ে।বিশেষজ্ঞরা
সবসময় পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে বলে।খাবার থেকেই আমাদের শরীরে পুষ্টি
গ্রহণ করে বছরে বিভিন্ন ধরনের ফল পাওয়া যায় দেশীয় ফলে পুষ্টিগুনে ভরপুর
থাকে।অনেকে সারা বছর আমের জন্য অপেক্ষা করে থাকে আম এই সুস্বাদু ফল কবে নামবে।
আম দিয়ে আমরা বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে থাকি আমসত্ত্ব আমের জুস পুডিং অনেক
ভাবেই আমরা আম খেয়ে থাকি।আমাদের শরীরের জন্য দুটোই উপকারী ও পুষ্টিকর খাবার।আম,
ভাত ,চিনি এই তিন খাবার শর্করা ও গ্লুকোজ জাতীয়।দুধে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি
উপাদান রয়েছে। আম অল্প-কালোরি সমৃদ্ধ খাবার কিন্তু দুধ চিনি ভাত অনেক ক্যালরি
রয়েছে।
যখন আম ও দুধ ভাত খাওয়া হয় তখন পুষ্টিগণ যেমন বেড়ে যায় ঠিক তেমনি ক্যালরি
পরিমাণ ও বেড়ে যায়। শিশু যুবক তরুণ তরুণীদের আম ও দুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে কোন
সমস্যা নেই খাবারের সাথেও খেতে পারবে। কিন্তু বয়স্করা যদি খেতে চাই তাহলে চর্বি
ছাড়া দুধ অচিন এটা বাদ দিয়ে খাওয়া উচিত। রক্ত গ্লুকোজ এর মাত্রা বাড়ার ঝুঁকি
থাকবে না ।আম বেশি খেলে অবশ্যই ব্যায়ামের পরিমাণ বাড়াতে হবে।
আম ও দুধের উপকারিতা
আম আর দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে খেলে অনেক প্রকারের উপকার পাওয়া যায়।আমও দুধের সঙ্গে
মিশিয়ে খেলে শরীরে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে থাকে।২২৬ গ্রাম আম দুধ খেলে আমাদের
প্রতিদিনের চাহিদা প্রায় ২০% ভিটামিন এ এবং ৩৩% ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
- আম ও দুধ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর কাজে সাহায্য করে।
- আম অনেক আশঁ জাতীয় খাবার।আমি প্রচুর ফাইবার রয়েছে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে, আমও দুধ খেলে শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমে।
- যাদের রক্তের সমস্যা রয়েছে লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন বাড়াতে আমও দুধ বিশেষভাবে উপকারী।অনেক ক্ষেত্রেই ফল ও দুধের সঙ্গে খেতে নিষেধ করা হয় তবে আমের ক্ষেত্রে এটি ভিন্ন।
- খাঁটি মিষ্টি এবং পাকা ফল যেমন আম খেজুর দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে কোন ক্ষতি হয় না
- দুধের সঙ্গে পাকা আম পিত্তকে শান্ত করে এবং এটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার।
- নিয়মিত আম ও দুধ খেলে ত্বক উজ্জ্বল রাখে আম ও দুধ মিষ্টি জাতীয় পানীয়।
- দুধের সঙ্গে আলাদা করে চিনি মেশাবেন না এতে হজমের সমস্যা হতে পারে এবং বাড়তি শরীরের অন্য সমস্যা ও দেখা দিতে পারে।
অন্যান্য খাবারের সঙ্গে আম
খাবারের সঙ্গে বিভিন্ন ফল খেতে নিষেধ করে ডাক্তারেরা।তবে আমের ক্ষেত্রে এটি
ভিন্ন, আপনি আমের রস বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাইতে পারেন।তবে এক্ষেত্রে
খেয়াল রাখতে হবে যাদের শরীরে প্রদাহ জনিত সমস্যা ত্বকের সমস্যা রয়েছে। এবং যারা
দুর্বল তাদের ক্ষেত্রে আমও দুধ একসঙ্গে না খাওয়াই ভালো।ডাক্তার যদি কোন কারনে আম
ও দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে নিষেধ করে তবে তারা এটি এড়িয়ে চলবেন।
আমসত্ত্ব খাওয়ার উপকারিতা
আমসত্ত্ব একটি মিষ্টি জাতীয় খাবার।আমসত্ত্ব টা আমের সময় তৈরি করা হয়।আমের
মৌসুমে পাকা আমের রসালো আজ থেকে প্রস্তুত করা হয় আমসত্ত্ব।বাংলাদেশ-ভারত
পশ্চিমবঙ্গের বাঙ্গালীদের কাছে খুব পরিচিত।
- আমসত্ত্ব হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
- খাবারের রুচি বৃদ্ধি করে।
- রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়।
- আমসত্ত্বয় রয়েছে অমেগা ফ্যাটি এসিড যা আমাদের ত্বকের জন্য খুব উপকারী।
- আমসত্ত্বেও রয়েছে ভিটামিন সি ভিটামিন ই যেটি আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী।
- রক্তের সমস্যা দূর করে।
- কোষ্ঠকাঠিন্য পাইলস হৃদরোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
- আমসত্ত্বের সাইট্রিক এসিড টারটারিকএসিড রয়েছে যার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
আমসত্ত্ব জন্য আম প্রস্তুত করার নিয়ম এবং আমসত্ত্ব তৈরি করার উপকরণ
আমসত্ত্ব তৈরি করার উপকরণ
- ভালো মানের টাটকা আম নিতে হবে
- লবণ
- মরিচের গুড়া,
- আচারের অনেক ধরনের মসলা,তেজপাতা, পাঁচফোড়ন
- ব্রাউন সুগার এবং
- খাঁটি সরিষার তেল
- পানি পরিমাণ মত ইত্যাদি।
আমসত্ত্ব প্রস্তুত করার নিয়ম
পাকা আম ভালো করে ধুয়ে নেওয়ার পরে এটাকে খোসা ছড়িয়ে ছোট ছোট টুকরা করে কেটে
নিন। আম যেন পাকা না হয় শক্ত আম দিয়ে আমসত্ত্ব ভালো হয়।ব্লেন্ডারে মিহি করে
পেস্ট করে নিন।কোন প্রকার পানি ব্যবহার করা যাবে না। আমি কোন প্রকার আজ থাকা যাবে
না আজ থাকলে ভালো করে ছেকে নিতে হবে।তারপর আমগুলো করাইতে দিয়ে আমও চিনি জাল দিতে
হবে।
আরো পড়ুন: ৫টি কাচাঁ গাজর খাওয়ার উপকারিতা জেনে নিন
মিশ্রণগুলো ঘন ঘন নাড়তে হবে।আম যখন আঠালো হয়ে যাবে তখন নামিয়ে নিতে হবে।এরপর
যেগুলোতে আমরা আমসত্ত্বগুলো তৈরি করব যেমন বাঁশের কুলা, ডালা ইত্যাদি সরিষার তেল
মাখিয়ে নিতে হবে।তারপরে রোদে এটিকে শুকাতে হবে।একটা অংশ শুকিয়ে গেলে এর উপরে
আরেকটি লেয়ার দেওয়ার পরে ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে।শুকিয়ে গেলে সাইজ করে কেটে
নিয়ে কৌটায় সংরক্ষণ করা যাবে।
লেখকের শেষ মন্তব্য
প্রিয় পাঠক আশা করছি আম ও দুধ খেলে কি হয়, আম ও দুধের উপকারিতা আমসত্ত্ব খাওয়ার
উপকারিতা প্রস্তুত করার নিয়ম বিষয় নিয়ে আমার এই আর্টিকেল। আর্টিকেল পড়ে অনেক
অজানা তথ্য জানতে পেরেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন। আমার এই আর্টিকেলটি অজানা তথ্যগুলো
আপনার ভালো লাগলে।
অবশ্যই আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধবদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো (ধন্যবাদ)
আশা অনলাইন শপ নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url