খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়-নিম পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয় নিম পাতা মুখে দিলে কি হয়। নিম পাতা পেটে সকালে খালি পেটে খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায় তাই এটি একটি ঔষধি গোলপাতা সম্পন্ন পাতা। নিমপাতা তেতো হলেও অনেক উপকারী।
নিমপাতা রস তেতো হওয়ায় অনেকে খেতে পারে না। তবে যেই করেই হোক নিমপাতা খেতে হবে। তাহলে আপনারা অনেক উপকার পাবেন। নিমপাতা সম্পর্কে কিছু টিপস আমার এই আর্টিকেলে থাকবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে অজানা তথ্যগুলো জানতে পারবেন।
নিম পাতার উপকারিতা
খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়? নিম গাছ একটি ঔষধি গাছ। ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে নিম পাতা খুব উপকারী আরো প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও অনেক ভূমিকা রাখে। নিম পাতার সাহায্যে আমরা বিভিন্ন ধরনের উপকার পেয়ে থাকি এটি আমাদের চুল ত্বক এবং শরীরের অঙ্গ পতঙ্গের জন্য খুব উপকারী কাজ করে।
হজমে নিম পাতার ব্যবহার: বদহজম অম্বল গাছের সমস্যা বুক জ্বালা আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী। এসব সমস্যার জন্য নিমপাতা ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নিম পাতার গুড়া বা নিম পাতার বড়ি তৈরি করে প্রতিদিন সকালে খেলে অনেক ভালো উপকার পাবেন। নিম পাতা হজমজনিত অসুস্থ তার ক্ষেঅত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যা সম্ভব বদহজম সমস্যা গুলিকে যদি দূরে রাখতে চান তাহলে প্রতিনিয়ত নিমপাতা ব্যবহার করা দরকার। নিম পাতার উপস্থিতিতে গ্যাস্টিকের হজম সংক্রান্ত সমস্যা গুলো সমাধান করে থাকে। এর পাশাপাশি হজম ক্ষমতার পেটে ফাঁপা ভাব কোষ্ঠকাঠিন্য সমঅস্যা গুলো থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
ত্বকে নিম পাতার ব্যবহার: বহু যুগ থেকেই রূপচর্চায় নিমের পাতা ব্যবহার দাগ দূর করতে নিমপাতা খুব ভালো কাজ করে এছাড়াও এটি ত্বকে মহেশরাইজার হিসেবেও কাজ করে ব্রণ দূর করতে নিমপাতা পেটে লাগালে অনেক উপকার পাওয়া যায়। এছাড়াও মাথার ত্বকে অনেক সময় চুলকানি ভাব হয় তাহলে চুলকানি কমে এছাড়াও কাঁচা হলুদ পেস্ট করে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং স্কিন ভালো থাকে।
ওজন কমাতে নিম পাতার ব্যবহার: ওজন কমাতে নিম পাতা খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে নিম ফুল শরীরের চর্বি কমাতে অনেক উপকারী। দেহের ওজন কমাতে পাতা এবং নিমের ফুল বেটে এক চামচ মধুর সাথে এক চামচ লেবুর রস মিশ্রণ করে প্রতিদিন খালি পেটে খেলে দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে।
উকুন বিনাসে নিম পাতার ব্যবহার: যাদের মাথায় অনেক বেশি পরিমাণে উকুন রয়েছে তারা যদি নিয়ম করে নিম পাতা পেস্ট করে মাথার তালুতে মেসেজ করলে উকুন দূর হয়। নিম পাতার পেস্ট সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার ব্যবহার করলে উকুন দূর হবে। শুকিয়ে গেলে ভালো করে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন শুকিয়ে গেলে ভালো করে চিরুনি দিয়ে মাথা আচড়ান।
খুশকিতে নিম পাতার ব্যবহার: নিমপাতা ছত্রাক নাশক এবং ব্যাকটেরিয়া নাশক উপাদান। খোকসের চিকিৎসার জন্য নিমপাতা মহা ঔষধ হিসেবে কাজ করে। নিম পাতা পেস্ট করে মাথার তালুর উপর ভালো করে লাগালে খুশকি উকুন ও চুলকানির মত সমস্যা থেকে উপকার পাবেন। এবং যাদের চুল পড়ে যায় তারা যদি নিম পাতা গরম জলে ফুটিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখার পর ভালোভাবে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলে তাহলে চুল পড়া সমস্যার হাত থেকে নিরাময় পাবেন।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিম পাতার ব্যবহার: রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতে নিম পাতার ব্যবহার খুব গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে নিম পাতা খুব উপকারী। ডায়াবেটিস রোগের সূত্রপাত দেখা দিলে সেই রোগের জীবাণু নাশক করতে নিম পাতা ব্যবহার করা হয় ডাইবেটিস জনিত অক্সি- ডেটিভ চাপ প্রতিরোধ করতে পারে। পাতায় অ্যান্টিবায়োটিক গুণ রয়েছে যার ফলে শরীরে মধ্যে রোগ জীবাণু নিয়ন্ত্রণ করতে ভূমিকা পালন করে থাকে।
নিম পাতা রক্ত পরিষ্কার করে: নিম পাতার রস আমরা যদি প্রতিনিয়ত সেবন করি তাহলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে আসে এবং রক্ত পরিষ্কার করে। এছাড়াও অদৃৎপিণ্ডের গতি স্বাভাবিক রাখতে নিমপাতা রস্ সেবন করতে পারেন এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কোষ্ঠ রোগ নিরাময় নিম পাতার ব্যবহার: কুষ্ঠ রোগ হলে সমাজ থেকে সবাইকে একঘরা করে দেই। কষ্ট রোগীদের সঠিক কোন চিকিৎসা নেই। কষ্ট রোগ একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে স্পর্শে পার হতে পারে। গবেষণা করে দেখা গেছে নিম গাছের ফল বীজ থেকে তৈরি তেল কুষ্ঠ রোগ নিরাময় ব্যবহার করা যেতে পারে। নিম তেল গ্রহণের আগে একটু সাবধানে থাকতে হবে কেননা অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে বিষাক্ত প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে আপনার শরীরের পক্ষে ভালো না হতে পারে তাই এটি ব্যবহারের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
দাঁতের রোগে নিম পাতার ব্যবহার: যাদের দাঁতের সমস্যা রয়েছে এবং দাঁতের সুস্থতা রাখতে নিমের ডাল দিয়ে মেসওয়াক প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত রয়েছে। নিম পাতা ও ছালের গুড়া কিংবা নিমের ডাল দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত মোজবুত হয় এবং রক্ত পড়া বন্ধ হয়।
চুলে নিম পাতার ব্যবহার: মেয়ে এবং ছেলে সবার কাছে চুল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ছেলে ও মেয়েদের সৌন্দর্য ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় চুলে। সপ্তাহে একদিন নিমপাতা বেটে চুলে লাগিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে চুল পড়া কমবে এবং চুল নরম ও কোমল হবে।
লিভারে স্বাস্থ্য রক্ষায় নিমপাতা ব্যবহার: লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে নিম গাছের ফুলগুলি লিভারের যে কোন ধরনের সমস্যা বা জন্ডিসের সমস্যা নিম পাতার ব্যবহার প্রতিরক্ষামূলক প্রভাব প্রদান করে থাকে।
ক্যান্সার নিরাময়ে নিম পাতার ব্যবহার: খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয় বর্তমানে সারা বিশ্বে ক্যান্সারের প্রভাব বেড়েই চলেছে। আমাদের মাঝে সব বয়সের মানুষেরই নিমপাতা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে নিম পাতায় রয়েছে স্যাকারাইডস ও লিওমনোয়েডস নামক দুইটি উপাদান। রক্তে ক্যান্সার এবং টিউমারের কোষগুলোকে ধ্বংস করে নিম পাতার ব্যবহারের ফলে ক্যান্সারের জীবাণুর আশেপাশে আসতে পারে না। গবেষণা করে দেখা গিয়েছে নিম পাতায় নিযার্স প্রোস্টেট ক্যান্সারের পোস্টগুলোকে ধ্বংস করে। নিম পাতার মিশ্রণ ক্যান্সার প্রসারণ করতে ও সহায়তা করে কোষ বিভাজন এবং প্রধানজনিত সমস্যাগুলোতে বাধা দিতে ক্যান্সারের চিকিৎসায় নিম পাতা সহ পাতা করে থাকে। নিম পাতায় থাকে প্রোটিন গ্লাইকো প্রোটিনামা রোগ প্রতিরোধক উপাদান যা শরীরের ক্যান্সারের জীবাণু ধ্বংস করতে এবং স্তন ক্যান্সারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
নিম পাতার ক্ষতিকর দিক
প্রত্যেকট জিনিস এর ভালো এবং খারাপ দিক রয়েছে। তেমনি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। মিমের ভালো দিক এর পাশাপাশি নিমের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। অতিরিক্ত নিমপাতা খাওয়া এবং ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে চলন জেনে নেই নিম পাতা ব্যবহারে অপকারিতা-
- ছোট বাচ্চাদের নিম তেল বা নিমপাতা খাওয়া মারাত্মক ক্ষতি। এর পার্শ্ব প্রতিকরা হিসেবে বমি বমি ভাব দুর্বলতা মস্তিষ্কের বাদি দেখা দিতে পারে এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
- অতিরিক্ত পরিমানে নিমপাতা খেলে উপকারের বদলে অপকার হবে এই জন্য অবশ্যই পরিমাণ মতো নিম পাতা খাওয়া উচিত।
- যাদের রক্তচাপ ও লো প্রেসার রয়েছে সেসব ব্যক্তিদের বেশি নিমপাতা খাওয়া উচিত নয় কারণ নিমপাতা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
- গর্ভবতী মহিলাদের নিমপাতা খাওয়া উচিত নয়। গর্ভ অবস্থায় নিম পাতা খেলে গর্ভপাত হওয়ার কারণ হতে পারে।
- কোন বাক্তি যদি অপারেশন করে তাদের অবশ্যই দুই সপ্তাহ আগে নিম পাতা খাওয়া ১৫ দিন আগে বন্ধ করতে হবে। খাওয়া বন্ধ না করলে সমস্যার মধ্য পড়তে হবে।
- নিম পাতা বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। তাই যারা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তারা নিম পাতা এড়িয়ে চলবেন।
- প্রতিদিন নিমপাতা দুইটির বেশি খাওয়া উচিত নয় আপনি যদি বড় পরিমাণে গ্রহণ করা শুরু করেন তবে এটি ভালোর চেয়ে ক্ষতি হবে।
- নিমপাতা গ্রহণের পরে যদি বমি ডায়রিয়া মাথা ব্যাথা সমস্যা গুলো দেখা দেয় সঙ্গে সঙ্গে নিম পাতা ব্যবহার বন্ধ করে দিতে হবে।
নিম পাতা মুখে দিলে কি হয়
- নিম পাতায় এন্টি ব্যাকটেরিয়া রয়েছে তাই খুব সহজেই ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা। দূর
- নিমপাতা ব্যবহারে ত্বক উজ্জ্বল হয়
- নিমপাতা মুখে ব্যবহারের ফলে মুখের দাগ এবং বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে।
- নিমপাতা বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে।
- নিমপাতার ফেসপ্যাক তৈরি করে মুখে লাগালে মুখের ব্রণ বা বড় কোন ক্ষত ইনফেকশন বা জ্বালাপোড়া অনুভব করলে নিম পাতা ব্যবহার করতে পারেন। নিম পাতার ফেসপ্যাক তৈরি করার জন্য পাতার শুকনো করে গুরু করে নিন এরপর দুই টেবিল চামচ নিম পাতার গুড়া, ২ চামচ চন্দন , পাউডার, সামান্য পানি, গোলাপ জল সবকিছু ভালো করে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ফেসপ্যাক হিসেবে মুখে ব্যবহার করুন।এরপর শুকানো না পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করন এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। এই ফেসপ্যাক ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য। ত্বকের জন্য নিম পাতা খুব উপকারী।
- নিমপাতা মুখে দিলে তোকে ইনফেকশন দূর হয়।
- নিমপাতা ব্যবহার করলে ত্বকের বা মুখের গর্ত গুলো হয় সেগুলো দূর হয়ে যায়।
- এবং কে নিমপাতা চুলের সমস্যা ও দূর করে।
খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়
খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়? অনেক উপকার পাওয়া যায়।যা আপনি যেভাবে সেবন করেন না কেন। অবশ্যই সে কাজ করবে। আপনি যদি নিম পাতার রস খালি পেটে খেলে তাহলে বেশি উপকার পাবেন। জেনে নিন নিমপাতা খাওয়ার উপকারিতা-
- খালি পেটে নিমপাতার রস খেলে পাকস্থলীতে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা কৃমির সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়।
- খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে অত্যন্ত কার্যকরী।
- খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- যারা কোলেস্টরেলের সমস্যায় ভুগছেন তারা নিয়মিত নিম পাতার রস সেবন করলে অতি দ্রুতই রোগের হাত থেকে মুক্তি পাবেন এজন্য নিমপাতা রস ফুঁটিয়ে রস সকালে খালি পেটে খেতে হবে।
- সকালে নিম পাতার রস খেলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে।
- খালি পেটে যদি নিমপাতার রস খাওয়া যায় তাহলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে যার ফলে আপনার শরীর হবে রক্তমুক্ত ও শক্তিশালী।
- খালি পেটে নিম পাতা খেলে সুগারের মাত্রা কমিয়ে দেয়।
- উপরের আলোচনা থেকে অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন খালি পেটে নিমপাতা রস খাওয়া কতটাই উপকারিতা।
নিম পাতার গুড়া খেলে কি হয়
নিম পাতার রস নিম পাতার গুঁড়া যেটাই খাবেন না কেন তাই আপনাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী। তবে নিম পাতার গুড়া নিয়ম মেনে খেতে হবে অল্প পরিসরে। নিম পাতা গুড়াবেশি পরিমাণে খেলে অনেক ক্ষতি হবে এটা আপনাদের অবশ্যই জানতে হবে নিম পাতার গুড়া খেলে কি হবে এটাও ভালোভাবে জানতে হবে। খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়
অবশ্যই নিম পাতার গুড়া খেলে নিয়ম কানুন মেনে খাওয়া উচিত আশা করি নিম পাতার রস গুলা খাওয়ার বিষয়টি আপনাদের ভালোভাবে বুঝাতে পেরেছি।
নিম পাতার গুড়া খেলে কি উপকার পাবেন তা নিচে দেওয়া হল:
- নিম পাতার গুড়া খেলে শরীরের টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে।
- নিম পাতার গুড়া খেলে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে সাহায্য করে।
- নিম পাতার গুঁড়ো খেলে পেটের সমস্যা দূর হয়।
- নিম পাতার গুড়া খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
চুলকানিতে নিম পাতার ব্যবহার
আমাদের দেশে প্রায় মানুষেরই চুলকানি সমস্যা হয়ে থাকে। আমরা অনেকে জানি না চুলকানিতে নিমপাতা ব্যবহার কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে ছোট ছোট চুলকানি হলে নিম পাতা গরম পানিতে ফুটিয়ে এই পানি দিয়ে গোসল করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। আপনার শরীরে যদি চুলকানি হয় নিমপাতা ফুটে গোসল করলে অনেকটা উপকার পাবেন। খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়? ভালো করে নিমপাতা ফুটিয়ে গোসল করলে মাথার খুশকি ও দূর হয়ে যায়। নিমপাতা মানব দেহের জন্য খুব উপকারী ও গুরুত্বপূর্ণ। নিমপাতা চুলকানিতে আরো কিছু ব্যবহার নিচে আলোচনা করা হলো:
- আপনার শরীরে যেসব জায়গায় চুলকানি হয়েছে সে সব জায়গা ভালো করে চুলকিয়ে নিয়ে নিমপাতা বেটে লাগিয়ে দিবেন অনেক ভালো উপকার পাবেন।
- পাতায় তেতো টাইপের উপাদান থাকার কারণে ক্ষতিকর ভাইরাস দূর করে দেয়।
- শরীরের ঘা চুলকানি এসব সমস্যা দূর করতে ও মুক্তি পেতে নিমপাতা বেটে লাগিয়ে দিলে অনেক উপকার পাবেন।
- শরীরের কোথাও চুলকানি হলে নিমপাতা বেটে লাগে লাগালে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
ব্রণের জন্য নিম পাতার ব্যবহার
নিম পাতার আমাদের দৈনন্দিত জীবনের অনেক উপকারী। বিভিন্ন ক্ষেত্রেই নিম পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। বর্তমানে অনিয়মিত জীবন যাপন ও ভেজাল ক্রিম ব্যবহারের ফলে ত্বকের হচ্ছে তা দূর করার জন্য নিম পাতা ভেজে উপাদান এন টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান খুবই কার্যকর। খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়? ত্বকের বিভিন্ন পোড়া দাগ রোদে পোড়া ভাব এলার্জি জানে তার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিমপাতা ব্যবহার করতে পারেন। নিমের বিভিন্ন ফেসপ্যাক যেমন নেম ও হলুদের ফেস মিমের পাতা ও পাকা পেঁপের ফেসপ্যাক ব্রণের সমস্যা দূর করতে অনেক কার্যকরী উপাদান।
ব্রণ দূর করার জন্য নিম পাতার সাথে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান মিশে ব্যবহার করা যেতে পারে।
আপনারা চাইলে নিম পাতার সাথে বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে পারেন।
নিম পাতা ও মধু: দুই চামচ নিমপাতা বাটা ও এক চামচ মধু একত্রে মিশিয়ে তৈরি করে মুখে লাগিয়ে শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত ধুয়ে ফেললে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করার পাশাপাশি তপ উজ্জ্বল ফর্সা হয়।
নিমপাতা বেসন টক দই: এক চামচ নিমপাতা এক চামচ টক দই এক চামচ বেসন ভালো করে মিক্স করে ফেসপ্যাক তৈরি করে নিন। তারপর ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে নিন। লাগানোর পরে ১৫ থেকে ২০ মিনিট শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা কর। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
নিমপাতা তুলসী পাতা পুদিনা পাতা লেবুর রস: তুলসী পুদিনা লেবুর রস নিমপাতা এই চারটা মিশ্রণ একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। আপনারা চাইলে এর সাথে হলুদের গুড়া ও মিক্স করতে পারেন। তারপর এটি মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষার পরে শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ত্বক ভালোভাবে ধুয়ে নিন। ব্যবহারের ফলে ত্বক ফর্সার পাশাপাশি ত্বকের ব্রণ গর্ত দূর করতে বেশ কার্যকরী।
নিমপাতা ও গোলাপজল: নিমপাতা বাটা এর সাথে গোলাপজল মিশিয়ে পাতলা করে পেস্ট ফেসপ্যাক তৈরি করে নিন। তারপর পনেরো থেকে বিশ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন এতে তৈলাক্ত ভাব কাটার পাশাপাশি ব্রণ দূর হবে সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার ব্যবহার করলে অনেক উপকার পাবেন।
এলার্জিতে নিম পাতার ব্যবহার
নিম গাছের পাতা ঔষধি পাতা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নিম পাতার ছাল বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গুনাগুন থাকে। আমরা সব সময় অ্যালার্জি জাতীয় খাবার খেয়ে থাকে যেমন চিংড়ি মাছ বেগুন গরুর মাংস হাঁসের মাংস ইত্যাদি। এই খাবারগুলো খাওয়ার কারণে আমাদের দেহে চুলকানি বা এলার্জির ভাব দেখাতে আমাদের শরীর শেষ সময় বেশি পরিমাণে চুলকাতে শুরু করে। এনার্জি দূর করার জন্য বিভিন্ন ওষুধ আমরা খেয়ে থাকি। আমাদের শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর। নিম পাতা আমাদের অনেক উপকার করে থাকে।
প্রাকৃতিক উপায়ে নিম পাতা ব্যবহার করলে এলার্জি দূর হয় নিম পাতার ব্যবহার অপরিসীম। নিমপাতা মিশ্রণ বানানোর পদ্ধতি:
- প্রথমে দেশী নিমপাতা গাছ থেকে নেমে ভালো করে ধুয়ে নিন।
- পাতাগুলো ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নিন।
- শুকিয়ে গেলে একদম গুড়া করে নিন।
- এরপর কাছের পাত্রে রেখে দেন।
এবার চলুন জেনে নেই নিম পাতার মিশ্রণ এলার্জি দূর করতে খাওয়ার পদ্ধতি:
- চায়ের সাথে নিম পাতার গুড়া নিয়ে চায়ের মতন করে খেতে পারেন।
- সকালে খালি পেটে দুপুরে বা রাত্রিবেলা মিশ্রণ খেলে অ্যালার্জি দূর করতে কাজ করবে।
- একটানা একমাস খেলে আমাদের শরীরে এলার্জি অনেকটাই কমে যাবে।
চুলের যত্নে নিম পাতার ব্যবহার
খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়? আমাদের অনেকেরই চুলে অনেক সময় খুশি চুল পড়া চুলের গোড়া ভেঙ্গে যায় এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য আমরা অনেকেই বিভিন্ন ধরনের চুলের ফেসপ্যাকপ্যাক ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু বাহিরের ব্যাক গুলো বেশিরভাগ চুলের ক্ষতি করে। এজন্য প্রাকৃতিক উপায়ে নিম পাতা ব্যবহার করার মাধ্যমে চুল মজবুত খুশকি ও চুল পরা বন্ধ করতে নিমপাতা ব্যবহার করতে পারেন।
- গরম পানি করে সেখানে নিমপাতা ভিজিয়ে রেখে বেটে নিতে হবে।
- এই পেষ্ট গুলো আমাদের চুলে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট লাগিয়ে রেখে শুকিয়ে গেলে তা ধুয়ে ফেলবেন।
- সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার এই প্যাক চুলে লাগালে আমাদের চুল পড়া ও খুশকি বন্ধ হয়ে যাবে।
- এক চামচ আমলকি রস, এক চামচ নিম পাতার রস,এক চামচ লেবুর রস প্রয়োজনের টক দই মিশিয়ে সপ্তাহে দুই তিন চুলে লাগালে তারপর শ্যাম্পু করলে অনেক উপকার পাবেন।
- নিম পাতা সামান্য পরিমাণে পানি ফুটিয়ে নিয়ে পাঁচ থেকে দশ মিনিট ফোটানোর পরে আজ বন্ধ করে ঢাকনা দিয়ে দিন এরপর ঠান্ডা হওয়ার পর জল থেকে নিয়ে আলাদা পাত্রে ঢেলে রাখুন গোসল করার সময় এই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিলে অনেক ভালো উপকার পাবেন।
আরো পড়ুন: ১০টি ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
লেখকের শেষ কথা
প্রিয় পাঠক আমি আমার আর্টিকেলে খালি পেটে নিম পাতা রস খেলে কি হয় নিম পাতা মুখে দিলে কি হয় চুলের যত্নে নিমপাতা ব্যবহারের নিয়ম এবং খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয় আরো নিম পাতা সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা দিতে পেরেছি। আর্টিকেল আপনি আপনি যদি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আমারে আর্টিকেলটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।
এইরকম আরো আর্টিকেল পেতে আমার ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভিজিট করুন। এবং আর্টিকেল পড়ে আপনার যদি কোন মতামত জানানোর থাকে তাহলে অবশ্যই সেটা আমাকে কমেন্ট বক্সে জানাবেন। (ধন্যবাদ)
আশা অনলাইন শপ নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url