মধু ও তুলসী পাতার উপকারিতা-তুলসী চা খাওয়ার উপকারিতা
মধু ও তুলসী পাতার উপকারিতা তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তুলসী পাতা সম্পর্কে আমার এই আর্টিকেলটি। তুলসী পাতা সম্পর্কে যারা সঠিক তথ্য পাচ্ছেন না তাদের জন্য আমার এই আর্টিকেলটি। আমার এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারবেন।
খালি পেটে তুলসী পাতার উপকারিতা তুলসী পাতা চা এর উপকারিতা ও অপকারিতা এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস রয়েছে আমার এই আর্টিকেলে। মনোযোগ সহকারে পড়লে অনেক অজানা টিপস জানতে পারবেন।
ভূমিকা
আমরা প্রায় সবাই জানি যে তুলসী পাতা আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী। তুলসী গাছ একটি ভেষজ উদ্ভিদ। তুলসী পাতা খেলে আমাদের শরীরে কি কি উপকার হয় তা আমরা অনেকেই জানিনা। তবে এটি সত্য যে প্রাচীনকাল থেকে তুলসী পাতাকে ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আজকের এই পোস্টে তুলসী পাতা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করছি।
খালি পেটে তুলসী পাতা খাওয়ার উপকারিতা
মধু ও তুলসী পাতার উপকারিতা? তুলসী পাতার উপকারিতা আমরা সবাই জানি কিন্তু তুলসী পাতা খেলে কি কি উপকারিতা পাওয়া যায় তা অনেকেরই অজানা তুলসী পাতায় আন্টি অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। যা অনেক রোগের ঔষধ যেমন ক্যান্সার ডায়াবেটিস হৃদরোগ ইত্যাদি সমস্যা দূর করে। এই তুলসী পাতা নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর বলে হাজার হাজার বছর ধরে আছে ওষুধের তালিকায়। জেনে নিন তুলসী পাতার কিছু উপকারিতা সম্পর্কে-
আরো পড়ুন: এলার্জি কমানোর উপায়সমূহ জেনে নিন
মাথার ব্যথা কমায়: সিডেটিভ এবং ডিসইনফেকটেন্ট থাকার কারণে তুলসী পাতায় যে কোন ধরনের মাথা যন্ত্রণা দূর করতে সাহায্য করে আপনি যদি মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগে থাকেন তাহলে এই মাইগ্রেনের কষ্ট কমাতে তুলসীপাতা কে কাজে লাগাতে পারেন।
রক্ত পরিষ্কার করে: প্রতিদিন সকালে খালি পেটে দুই থেকে তিনটি পাতা খাওয়ার অভ্যাস করলে রক্তের ক্ষতিকর উপাদান শরীরের বাহিরে বেরিয়ে যায় ফলে শরীরের রক্ত পরিষ্কার থাকে।
দুশ্চিন্তা কমায়: তুলসী পাতা খাওয়া মাত্র কটিসল হরমোনের ক্ষরণ কমে যেতে শুরু করে ফলে দুশ্চিন্তা কমাতে শুরু করে হরমোনের সঙ্গে দুশ্চিন্তার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।ডিপ্রেশন বা মানসিকটেনশন কমাতে তুলসী পাতা অনেক সাহায্য করে।
সর্দি জ্বর কাশি কমায়: তুলসী পাতা হল প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক। জ্বর কাশি বা সর্দি হলে ছোট বড় সবাই তুলসী পাতা খেয়ে থাকে। তুলসী পাতা শরীরে প্রবেশ করার সাথে সাথে যে ভাইরাসের কারণে জ্বর হয়েছে সেই জীবাণুগুলোকে মারতে শুরু করে ফলে শরীল ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে।
ব্রণের সমস্যা কমায়: তুলসীপাতায় রয়েছে আন্টি ব্যাকটেরিয়া যার শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা জীবানুদের সঙ্গে সঙ্গে মেরে ফেলে। ফলে ব্রণের প্রকোপ কমাতে শুরু করে। তুলসী পাতা খেলে নানারকম সংক্রমণ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম হয়। যাদের অনেক বেশি ব্রণ তারা তুলসী পাতার রস করে খেতে পারেন এবং পেস্ট করে মুখে লাগাতে পারেন। এতে অনেক ভালো উপকার পাবেন।
দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে: তুলসী পাতায় প্রচুর পরিমাণ পুষ্টিগুণ রয়েছে যা দৃষ্টিশক্তি বাড়ানো পাশাপাশি ছানি এবং চোখের যে কোন রোগ দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: তুলসী পাতা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে ফুসফুসের সমস্যা জ্বর কাশি ইত্যাদির জন্য অনেক উপকারী। ও আওয়াজ পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি পান করলে খুব সহজেই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এবং ক্ষতস্থানে তুলসী পাতাবেটে লাগালে ক্ষতস্থান দ্রুত শুকিয়ে যায়।
ওজন কমায়: তুলসী পাতা রক্তে সুগারের মাত্রা ও কোলেস্টরেল ২ রোধ করে। এজন্য সহজেই ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়।
ডায়াবেটিস এর সমস্যা কমায়: তুলসী পাতা খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা কমে যায়।তুলসী পাতায় রয়েছে আন্টি ডাইবেটিক ঔষধের গুণাবলী। তুলসী পাতায় থাকা স্যাপোনিন, ফ্ল্যাবোনয়েড ডায়াবেটিস রোধ করতে কার্যকরী।
কাশির জন্য তুলসী পাতা খাওয়ার নিয়ম
তুলসী পাতায় রয়েছে অনেক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার গুণাবলী। জ্বর, সর্দি, কাশি এবং বিভিন্ন রোগের জন্য তুলসী পাতা অনেক গুলো রয়েছে। তুলসী পাতা ঔষুধ হিসেবে ও ব্যবহার করা হয়। গাছের পাতা শিকড় বাকল বীজ ফুল সব কিছুই ঔষধি গুণাবলী সম্পন্ন। জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, ঠান্ডা সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে উনি ওম মেনে তুলসী পাতার রস খেলে ঠান্ডা জনিত রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। চলুন জেনে নেই তুলসী পাতা খেলে কি কি উপকার মিলবে:
- কয়েকটি তুলসী পাতার রস এবং আদার রস মিশিয়ে সেবন করলে গলা ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
- এক কাপ পানিতে ৬ থেকে ৬০ তে তুলসির পাতা আদা লবঙ্গ মিশিয়ে গরম পানি ফুটিয়ে খেলে কাশি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
- তুলসী পাতা খেলে মুখের রুচি বাড়ে এবং খাবার হজম করতে সাহায্য করে।
- তুলসী পাতা খেলে সর্দি জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
- ছোট শিশুদের জ্বর কাশি সর্দি হলে তুলসী পাতার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে শিশুদের অনেক উপকার পাওয়া যায়।
- তুলসীর গাছের বীজ গুড়া করে অনেকদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায়। বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খেয়েও যারা কাশি থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। তারা তুলসীর গুড়া, লবঙ্গ মিশিয়ে ঝাল দিয়ে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন অনেক উপকার পাবেন।
মধু ও তুলসী পাতার উপকারিতা
মধু ও তুলসী পাতার উপকারিতা? তুলসী এবং মধুতে রয়েছে অনেক গুনাগুন। শরীর সুস্থ ও ভালো থাকার জন্য মধু ও তুলসী অনেকেই খেয়ে থাকেন। তুলসী ও মধুর মিশ্রণ আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। প্রতিদিন তুলসী পাতার রস এবং এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে অনেক উপকার পাবেন।তুলসী ও মধুতে রয়েছে পুষ্টি ও ভিটামিন। যার শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে। সর্ব রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কয়েক বছর ধরে তুলসী ও মধুর মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।
- তুলসী ও মধু খেলে সর্দি কাশি থেকে রক্ষা করে এবং শরীরে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে।
- ঘরোয়া উপায়ে তুলসী ও মধু মিশ্রন খেলে কাশি কমিয়ে যাই এবং স্বাসতন্ত্রের সমস্যা কমাতে কাজ করে।
- তুলসীও মধু তে রয়েছে আন্টি সেপটিক উপাদান যা ত্বককে প্রশমিত করে এবং এলার্জি কমায়।
- তুলসী ও মধু মিশ্রণ খেলে কিডনিতে পাথর দূর করতে কাজ করে এবং কিডনির বিষাক্ত পদার্থ সরিয়ে দেয় কিডনিকে সুরক্ষিত রাখে।
- তুলসী ও মধু শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং হৃৎপিণ্ডকে ভালো রাখতে কাজ করে।
- খুব বেশি মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে তুলসী চা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন তুলসি চা খেলে মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে।
- বয়স ধরে রাখতে কে বা না চায়। এজন্য তুলসী ও মধু তে রয়েছে আন্টি অক্সিডেন্ট ভিটামিন যা বয়স বৃদ্ধি কমিয়ে দেয় ত্বকের বলিরেখা পড়া রোধ করে।
তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
তুলসী পাতার উপকারিতা
মধু ও তুলসী পাতার উপকারিতা তুলসী পাতা অনেক উপকারী একটি ওষুধ যা শরীরের রক্তের সুগারের মাত্রা কমিয়ে ফেলে এবং অ্যান্টিবায়োটিক এর কাজ করে। অ্যাজমা ফুসফুসে সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে তুলসী পাতা ব্যবহার করা যায়। তুলসী পাতা রস করে খেলে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে। শরীরে বিভিন্ন জায়গায় টিউমারের কোষ দেখা দিলে তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তুলসী পাতার রস নিয়মিত খেলে অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনের কারনে সৃষ্ট ক্যান্সার বেস্ট ক্যান্সার থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
এছাড়াও সর্দি কাশিগলা ব্যথা কফ পরিষ্কার করতে তুলসী পাতার রস অনেক উপকারী। বাড়ির আঙ্গিনায় বা ফুলের টপে তুলসী গাছ লাগিয়ে রাখতে পারেন। তুলসী গাছের হাওয়া শরীরের জন্য খুব উপকারী। কি পাতার হাওয়া শরীরে লাগলে মন ভালো থাকে পজেটিভ এনার্জি পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস করেন সনাতন ধর্মীয় মানুষ।
তুলসী পাতার অপকারিতা
গর্ভাবস্থায় তুলসী পাতা সেবন করলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। সামান্য তুলসী পাতা খেলে তা ক্ষতির কারণ হবে না। কিন্তু অতিরিক্ত তুলসী পাতা খেলে জটিলতা দেখা দিবে এবং গর্ভাবস্থায় স্তন্যপান করানোর সময় নারীদের ক্ষেত্রে তুলসী পাতা সেবন না করাই ভালো অতিরিক্ত তুলসী পাতা খেলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।তুলসী পাতা অতিরিক্ত খেলে শরীরের রক্তে প্রবাহ বাড়িয়ে যায় যার শরীরের রক্ত জমাট বাধার প্রবণতা নষ্ট হয়ে যায়।
আপনারা যদি বড় কোন সার্জারি বা সিজার হয়ে থাকে। তাহলে তুলসী পাতা খাওয়া বন্ধ করতে হবে। তুলসী পাতায় অনেক বেশি পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে যাদের লো প্রেসার বা চাপের সমস্যা রয়েছে তারা তুলসী পাতা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন পরিমিত তুলসী পাতা খেলে শরীরের উপকার হয়।
শিশুদের তুলসী পাতা খাওয়ার নিয়ম
শিশুদের অল্পতেই ঘন ঘন ঠান্ডা লেগে যায় শিশুদের জন্য তুলসী পাতা খুব উপকারে তবে শিশুদের নিয়ম মেনে তুলসী পাতা খাওয়াতে হবে। শিশুরা সারা বছরে কম বেশি সর্দি-কাশি ঠান্ডা গলা ব্যথায় দাঁত ব্যথায় ইত্যাদি ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। মধু ও তুলসী পাতার উপকারিতা এতে করে শিশুদের বাবা-মা অনেক চিন্তায় পড়ে যায় শিশুদের অনেক বেশি যত্ন নিতে হয় এজন্য আপনি প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে তুলসী পাতা খাওয়াতে পারেন । সর্দি কাশি ঠান্ডা সমস্যার সমাধান হবে এবং পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিবে তবে অবশ্যই তুলসী পাতায় পরিমাণ ও নিয়ম মত শিশুদের খাওয়াতে হবে।
- তুলসী পাতা অল্প পরিমাণে নিয়ে রস বের করে আপনার শিশুকে খাওয়ালে সর্দি-কাশি দূর হয়ে যাবে। সর্দি হলে তুলসী পাতার সাথে মধু মিক্স করে খাওয়াতে পারেন গলা ব্যথা ও অন্যান্য সমস্যা ও শিশুর দূর হবে।
- শিশুরা যদি তুলসী পাতা খেতে না চায় তাহলে ঘির সাথে মিক্স করে রুটি বানিয়ে তুলসী পাতার গুড়া খাওয়াতে পারেন।
- এবং এর সাথে ডাল দিতে পারেন এতে আরো সুস্বাদু হবে এতে শিশু আরও ভালো করে খাবে।
- এবং একটি পাত্রে আদা কুচি তুলসীপাতা দারুচিনি গুড়া দিন এই বিশেষ পানীয় খাওয়াতে পারেন আপনার শিশুকে।
- এমনকি তুলসী মধু লেবুর রস ভালো করে ফুটিয়ে তা ছেঁকে নিয়ে শরবত হিসেবে শিশুকে খাওয়াতে পারেন। তুলসী পাতার সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন
- নিয়মিত তুলসী পাতা খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করলে শরীর সুস্থ থাকার পাশাপাশি সর্দি কাশি জ্বর গলা ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে শিশুকে খাওয়ানোর পাশাপাশি পরিবারের সকলেই এই তুলসী পাতা খেতে পারেন।
তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে কি হয়
তুলসী পাতা স্বাস্থ্যর জন্য অনেক উপকারে এ কথা আমরা সবাই জানি তুলসী জাদুকরী পাতা যা রোগ নিরাময় করতে পারে। যুগ যুগ ধরে তুলসী পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রতিদিন তুলসী পাতা খেলে যেমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং অন্যান্য ঝুঁকি কমায়।
তবে তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে দাঁতের অনেক ক্ষতি হয় কারণ তুলসী পাতায় রয়েছে পারদ। তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে দাঁতে ব্যথা হতে পারে। তুলসী পাতায় প্রাকৃতিক হওয়ায় মুখের স্বাস্থ্য ক্ষতি করে পাতায় থাকা ক্ষারী পদার্থ। তুলসী পাতা খেতে হলে চা করে খেতে হবে এবং ফুটন্ত পানিতে তুলসী ফুটিয়ে নিয়ে পান করুন।
তুলসী পাতার চা এর উপকারিতা
তুলসী পাতার চা এর উপকারিতা? মধু ও তুলসী পাতার উপকারিতা বর্তমান কাজের অবসরে বা আড্ডায় চা যেন সকলেরই নিত্য দিনের সঙ্গী। সকাল ও বিকেল চা ছাড়া আমাদের অবসর সময় কাটতে চায় না। আমরা সকলেই দুধ চা এবং আদা চায়ের সঙ্গে পরিচিত। বর্তমান সময়ে চায়ের দোকানে মরিচের চা তেতুলের চা মালটার চা তুলসী পাতার চা ইত্যাদি চায়ের দেখা মেলে চায়ের দোকানে।
অন্যসব চায়ের চেয়ে তুলসী পাতার চায়ের উপকারিতা সবচেয়ে বেশি। মৌসম পরিবর্তনের কারণে অনেকের জ্বর ঠান্ডা কাশিরসমস্যা হয়ে থাকে। তুলসী পাতা এবং তুলসী পাতার চা দ্রুত সুস্থ হতে সহায়তা করে। এজন্য দিন দিন তুলসী পাতার চা দিন দিন বেড়েই চলছে।
- তুলসী চা বানানোর জন্য আদা কুচি মধু তুলসী পাতা আর লেবুর রস লাগবে এক কাপ চা তৈরির জন্য। তবে আপনি চাইলে লবঙ্গ এবং এলাচ পানিতে ফুটিয়ে নিতে পারে না।
- শরীরের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে তুলসী পাতার চা এর উপকারিতা অপরিসীম।
- হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে তুলসীর চা বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
- লিভারের সমস্যা স্তন ক্যান্সার এবং ভালো হোম হতে তুলসী পাতা বেশ উপকারী।
- যাদের শ্বাস-প্রশ্বাস এবং সাইনাসের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য তুলসী পাতার চা খুব উপকারী।
- তুলসী চা খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি পায় ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে নিয়মিত তুলসী চা খুব উপকারী।
- তুলসী পাতা হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে নিয়মিত তুলসী পাতার চা খেলে গ্যাস অম্বলের সমস্যা থেকে রেহাই পায়।
- তুলসী পাতা ওজন কমাতে এবং নিয়ন্ত্রণ করতে খুব উপকারী তুলসী পাতার চায় এর মধ্যে আছে অনেক গুণাগুণ।যা ওজন কমাতে পারে তাড়াতাড়ি।
- তুলসী পাতা খেলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয় তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয় এবং এতেই কমে দুর্গন্ধ।
- তুলসী পাতা আন্টি অক্সিডেন্ট হয়ে ভরপুর এর নিয়ম করে তুলসী পাতার রস ত্বকে লাগালে বয়সের ছাপ দূর হয় এবং যাদের ব্রণ আছে তাদের জন্য খুব উপকারী।
- যাদের বাতের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য তুলসীর চা খুব উপকারী। বাতের রোগীদের জয়েন্টে বেশি ব্যথা ও ফোলার সমস্যা পড়তে হয়। ১০০ টির বেশি ধরনের আর্থ্রাইটিস রয়েছে এ থেকে মুক্তি পেতে তুলসীর ব্যবহার কার্যকর হতে পারে। তুলসী পাতা আন্টি আর্থ্রাইটিস রয়েছে যা ভাব থেকে মুক্তি দেই।
- তুলসীর চা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব উপকারী তুলসীতে আন্টি ডায়াবেটিস বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। যা শরীরের রক্তের গ্লুকোজ কমাতে সহায়তা করে এই ভিত্তিতে এটি বলা যেতে পারে যে তুলসী চায়ের উপকারিতা ডায়াবেটিস রোগীরাও পেতে পারে।
- বোধ করতে তুলসী ব্যবহার করা যেতে পারে তুলসীতে রয়েছে নানা গুনাবলী তুলসীর চা ঠান্ডা করে চুল ধোয়ার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে ।তুলসী পাতার চা এর উপকারিতা চুলের জন্য ও হতে পারে।
আরো পড়ুন: মধু খাওয়ার নিয়ম ও সময় জেনে নিন
তুলসী পাতা চা এর অপকারিতা
সব জিনিসেরই ভালো ও খারাপ দিক রয়েছে অতিরিক্ত কোন কিছুই পান করা বা খাওয়া ঠিক নয় যা শরীরের জন্য অনেক ক্ষতি কর। তেমনি তুলসী চায়েরও উপকারিতা ও অপকারিতা রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক তুলসী চায়ের অপকারিতা।
- তুলসী চায়ে আন্টি ডায়াবেটিক্স বৈশিষ্ট্যের কারণে অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে শর্করার পরিমাণ কমে যেতে পারে।
- তুলসী পাতায় উচ্চ রক্তচাপ গুণ রয়েছে বেশি পরিমাণে পান করলে উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে।
- তুলসী পাতায় রয়েছে বেনজিন নামক একটি উপাদান। পুরুষদের শুক্রান সংখ্যা কম হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে যদি তুলসী পাতার চা বেশি পরিমাণে খাওয়া হয়।
- চা অতিরিক্ত পরিমাণে সেবন করলে রক্ত অতিরিক্ত পাতলা হয়ে যেতে পারে।
- তুলসী পাতা ভেজেস যেহেতু শরীরের রক্ত জমাট বাধার ক্ষমতাকে ধীড় করে দিতে পারে। এজন্য তুলসী পাতা চা বেশি খাওয়া উচিত না।
- অন্তঃসত্ত্বা এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় তুলসী চা পান করলে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি হতে পারে কিনা তা পুরোপুরি জানা যায় নাই। এজন্য গর্ব অবস্থায় বা সন্তানকে স্তন্যপান করান তাহলে তুলসীর চা পান করবেন না।
লেখকের শেষ মন্তব্য
প্রিয় পাঠক মধু ও তুলসী পাতার উপকারিতা তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তুলসী পাতা নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল পড়া বন্ধ মুখের ব্রণ দূর করে রক্তনালী সচল রাখে লিভার ঠিক রাখে। আমার এই আর্টিকেলটি পড়ে আরো তুলসী পাতার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরে উপকৃত হয়েছেন আসা করছি।
আশা অনলাইন শপ নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url