১০টি ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা-প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় জেনে নিন
প্রিয় পাঠক ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়ার নাম কি সম্পর্কে জানার জন্য সঠিক তথ্য খুঁজে পাচ্ছেন না তাদের জন্য আমার এই আর্টিকেলটি। আমার এই আর্টিকেলে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কে।
আমরা প্রতিনিয়তর জন্য ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের মুখোমুখি হচ্ছে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের জন্য অনেকে মৃত্যুবরণ করে থাকে। ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে কিছু টিপস সম্পর্কে জানতে হলে আমার এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়ার নাম কি
আমরা প্রতিনিয়তানের জন্য অনেক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের মুখোমুখি হচ্ছে সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো খাদ্য সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া গ্রহণ।আমরা মানব জাতির বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণ করে কিন্তু যদি ব্যাকটেরিয়া যুক্ত হয় তাহলে বেঁচে থাকায় দুর্বিষহ হয়ে উঠে।কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া খাবারের মধ্যেই দেহে প্রবেশ করে কিন্তু দেহে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাকে বলে আমরা বুঝতে পারি না।ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা মানব জাতির শরীরে নাসিকা গলবিল মিউকাস ক্ষরণ করে তাতে লাইসোজাইম মনোসাইডগুলো একপ্রকার টিস্যু নামক প্রোটিন থাকে যা শরীরের ব্যাকটেরিয়া দূর করতে কাজ করে।খাদ্যদ্রব্যের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের পরিপাকনালির এসিড ও বিভিন্ন এনজাইম গুরুত্বপূর্ণ ভাবে কাজ করে।
- মানব শরীরের লালা গ্রন্থিতে লাইসোজাইম, নামক এক ধরনের এনজাইম থাকে। গলায় ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণু ধ্বংস করে।
- লাইসোজাইম গলায় ও লালা অবস্থিত সামান্য পরিমাণে হাইড্রোজেন কার্বনেট আয়র মিলে দাঁত ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে লালা রসের আবিরাম মুখের ভিতরে খাদ্য জমতে পারে না ফলে ব্যাকটেরিয়া ও মুখে জন্মাতে পারে না।
- পাকস্থলীতে প্যারাইটাল বা অক্সেনেটিক কোষ গ্যাস্টিক পাকিস্তানের শক্তিশালী এসিডিক সৃষ্টি করে অ্যাসিটিক এর মাধ্যমে খাদ্য অবস্থিত ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করে ফেলে।
- অন্ত্রে বসবাসকারী অনেক ধরনের মিথি টিভি অনুজীব থেকে ক্ষরিত অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং খাদ্যবাহিত কয়েক ধরনের ভাইরাসের বৃদ্ধি কমিয়ে ফেলে।
- যকৃত থেকে ক্ষরিত পৃথ ডিওডেনামে অবস্থিত কাইম আন্টিবডির মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি প্রতিহত করে।
- শরীরের পুষ্টিক নালীর অন্তস্থলে আবৃত থাকে।মিউকাসে এক ধরনের রাসায়নিক রয়েছে যা ব্যাকটেরিয়াকে ঘিরে থাকে যা শরীরের ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে বাধা দেয়।
ভিটামিন বি ১
ভিটামিন বি২
ভিটামিন বি ৬
ভিটামিন বি ১২
ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
ব্যাকটেরিয়ার নাম শুনলেই মনে করি এটি ক্ষতিকর জীব কিন্তু সব ব্যাকটেরিয়ায় আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় এরা আমাদের অনেক উপকার করে থাকে।জেনে নেওয়া যাক ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা
- ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহার করা হয়।
- ব্যাকটেরিয়া থেকে সাবটিলিন পলিমিক্সিন হতে ইত্যাদি জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে।
- ব্যাকটেরিয়া থেকে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ তৈরি করা হয় যা বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
- প্রতিষেধক টিকা তৈরিতে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয় যেমন যক্ষা কলেরা টাইফয়েড রোগের টিকা ঔষধ তৈরি হয়। হপিং কাশি ধনুষ্টংকার রোগের ঔষধ ব্যাকটেরিয়া থেকে সৃষ্টি হয়।
- ভিনেগার ল্যাকটিক অ্যাসিড রসায়নিক দ্রব্য প্রস্তুত করার জন্য ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়।
- জাতীয় ব্যাকটেরিয়া সাহায্যে থেকে দুই মাখন প্রভাতটি তৈরি করা হয়।
- কৃষিক্ষেত্রেও ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়।মাটির উর্বরতার বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন এর মাধ্যমে পতঙ্গ নাশক হিসেবে ফলন বৃদ্ধিতে।
- শিল্পক্ষেত্রেও ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়।পাট শিল্পে পাটের ফলন বৃদ্ধি চামড়া শিল্পে এর অবদান
- কম নয়।চা কপি তামা প্রক্রিয়াজাত করণ জৈব গ্যাস তৈরিতে ও ব্যাকটেরিয়া অনেক উপকারী।
- জ্বরের ঔষধ ব্যাথার ঔষধ ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয় যা চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
- বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে গম ধান উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
- আবর্জনা পচনের ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত করা হয় তেল নিষ্কাশনে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয় এবং বায়োগ্যাস উৎপন্ন করার জন্য ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়।
ব্যাকটেরিয়ার অপকারিতা
ব্যাকটেরিয়ার যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমনি অপকারিতা ও রয়েছে জেনে নেওয়া যাক ব্যাকটেরিয়ার অপকারিতা সমূহ-
- মানুষের শরীরে রোগ সৃষ্টি যেমন যক্ষা টাইফয়েড কলেরা আমাশয় ধনুষ্টংকার ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। এবং বিভিন্ন প্রাণীদের ও ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে রোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে।
- খাদ্য দ্রব্য পচন ও বিষাক্ত কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া খাদ্য বিষাক্ত করনেও সৃষ্টি করা হয়।এতে মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে একে বটুলিজম বলে।
- পানি দূষণ এ ব্যাকটেরিয়া কাজ করে এতে পানিকে পানের অযোগ্য করে তোলে।
- বায়োটেররিজম জীবাণু ব্যবহৃত হয়।
- ব্যাকটেরিয়া কাপড় ও কাঠের আসবাবপত্রের ক্ষতি করে থাকে।
- Clostridium botulinum নামক ব্যাকটেরিয়া খাদ্য বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে চা খেলে মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে।
- Clostridium sp. নামক ব্যাকটেরিয়া বিমানের জ্বালানিতেও তৈরি হলে বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে।
ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায়
- ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগীকে বিশ্রাম থাকতে হবে
- প্রচুর পানি টাটকা ফলের রস ডাবের রস ছোট মাছ পেঁপে পটল তরকারি খাওয়াতে হবে।
- তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবেনা
- নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে
প্রতিরোধের উপায়
- ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে যৌন মিলন করা যাবে না।
- নাইট্রোজেন সার বেশি ব্যবহার করা যাবে না।
- গাছ রোপনের সময় গাছের পাতা ছাটাই করা যাবে না।
- ব্যাকটেরিয়ার হলে ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে হবে।
- রক্ত পরীক্ষা করে দেখতে হবে রক্তে কোন সমস্যা রয়েছে কিনা।
- রক্ত শরীরের দেওয়া নেওয়ার ব্যাপারে সাবধান হতে হবে।
- সেলুনে সেভ করা পরিহার করতে হবে প্রতি জনের জন্য আলাদা আলাদা ব্লেড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে ইনজেকশনের যন্ত্রপাতি একজনের তা অন্যজন ব্যবহার করা যাবে না রক্তগ্রহণের যন্ত্রপাতি কেউ ব্যবহার করা যাবেনা।
- ব্যাকটেরিয়াজনিত সমস্যার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
ব্যাকটেরিয়ার ৫টি বৈশিষ্ট্য
- ব্যাকটেরিয়া সাধারণত এককোষে তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ দল বেধে থাকতে পারে।
- ফাজ ভাইরাসের প্রতি এরা খুব সংবেদনশীল।
- ব্যাকটেরিয়া গুলো খুব ছোট ধরনের জীব।
- কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যা বাধ্যতামূলক এরা অক্সিজেন থাকলে বাঁচতে পারে না।কিছু কিছু সুবিধাবাদী ও অবায়বীয় কারণে এরা অক্সিজেনের উপস্থিতিতেও বাঁচতে পারে আর কতগুলো আছে যারা বায়বীয় কারণ এরা অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে না।
- সাধারণত বিভাজন প্রক্রিয়ায় এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে ব্যাকটেরিয়ার বিভাজন প্রক্রিয়ায় সাধারণত ৩০ মিনিট সময় লাগে।ক্রোমোজোম না থাকায় এদের মাইটোসিস ও মিয়োসিস ঘটে না।
- কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া মৃতজীবী পরজীবী, মিথোজীবী স্বভোজি ।কিছু কিছু সহজে ব্যাকটেরিয়া সরাসরি সালোকসংশ্লেষণ আলোক শক্তির উৎস রূপে গ্রহণ করে।
- ব্যাকটেরিয়া গুলো দ্বিবিভাজন ওরে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বংশবিস্তার করে।
লেখকের শেষ মন্তব্য
প্রিয় পাঠক আমি আমার এই আর্টিকেলে ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়ার নাম কি ব্যাকটেরিয়ার নাম প্রতিকার ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করলাম।আমার এই আর্টিকেল পড়ে যদি উপকার বা অজানা তথ্য জানতে পারেন।
তাহলে আমার এই আর্টিকেলটি আপনার বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজন পরিচিতদের কাছে আমার এই আর্টিকেলটি শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।এবং ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কে যদি কিছু জানার থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন।
আশা অনলাইন শপ নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url