২০টি ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা জেনে নিন
ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা জেনে নিন কোন ফল খেলে ডায়াবেটিস কমে যায় ও ডায়াবেটিস সম্পর্কে আমরা অনেকেই সঠিক তথ্য খুঁজে পাচ্ছি না আমার এই আর্টিকেলে আজকে ডায়াবেটিসের সকল তথ্য আলোচনা করবো
প্রিয় পাঠক ডায়াবেটিসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস আমারে আর্টিকেলে আলোচনা করলাম গুরুত্বপূর্ণ টিপস গুলো জানতে হলে আমার এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।
ভূমিকা
ডায়াবেটিস একটি মরণ বাধি রোগ ডায়াবেটিস রোগীদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। ডায়াবেটিস হলে ডায়াবেটিস রোগীদের সবকিছুই কন্ট্রোল করে খেতে হয়। ডায়াবেটিসের লক্ষণসমূহ আমাদের সব সময় খেয়াল রাখতে হবে এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ডায়াবেটিস কত হলে মানুষ মারা যায় ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা হয় ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল এবং আরো কিছু টিপস আমার এই আর্টিকেলে রয়েছে। ডায়াবেটিস সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে হলে আমার আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।
ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল
ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা জেনে নিন? একজন সুস্থ মানুষের জন্য রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ খালি পেটে ৪-৬ হলে স্বাভাবিক বা নরমাল। আবার আমেরিকান স্বাস্থ্য সেবা মায়োক্লিনিকের মতে খালি পেটে ৫.৭ হলে স্বাভাবিক মাত্রা। আবার খাওয়ার পরে আর্ট পয়েন্টের নিচে হলে নরমাল ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য খালি পেটে ৪-৭ হলো নরমাল।
এবং খাওয়ার পরে ৮.৯ পয়েন্ট হলে নরমাল। আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ যদি ১৬.৭ মিলি মোল বা ৩০০ গ্রাম বেসিলি এর বেশি হয় আবার শর্করা গড়ে ১০% এর বেশি হয় তাহলে ইনসুলিন নিতে হবে
ডায়াবেটিসের লক্ষণ
ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো আমাদের সবারই জানা থাকতে হবে সচেতনতার জন্য প্রতিটি মানুষেরই ডায়াবেটিসের লক্ষণ সমূহ জেনে রাখা উচিত সাধারণত কিছু লক্ষণগুলো জেনে নেই-
- ওজন বৃদ্ধি পাওয়া।
- অতিরিক্ত পানির পিপাসা পাওয়া।
- অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগা।
- হাত পা অবশ হয়ে আসা।
- বারবার প্রসবের চাপ হওয়া।
- স্বাভাবিকের চেয়ে ত্বক বেশি শুষ্ক হয়ে যাওয়া।
- স্বাভাবিকের চেয়ে শরীরে অনেক বেশি সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া।
- দাঁত নড়ে যায় এবং মুখের ভিতর শুকিয়ে যায় বারে বারে।
- মাড়িয়ে জ্বালাপোড়া রক্ত পড়াও দুর্গন্ধ হয়।
এগুলো থাকলে যে ডায়াবেটিস রয়েছে তা না এগুলো ডায়াবেটিসের লক্ষণ। আপনাদের পরিবারের ডায়াবেটিস রয়েছে নাকি এটা জানতে হবে এবং ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করতে হবে।
ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা জেনে নিন
স্বাস্থ্যকর খাবার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। বর্তমান মোট জনসংখ্যার ১০% মানুষই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।আজকে আমি আমার এই আর্টিকেলে ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা সম্পর্কে জেনে নিন-
- ডায়াবেটিস রোগীদের নানা রকমের ফলমূল শাকসবজি এবং সেচ্ছার জাতীয় খাবার যেমন লাল চালের ভাত লাল আটা রুটি এবং আলু।
- তিনি লবণ ও চর্বি জাতীয় খাবার একেবারে কমিয়ে দেওয়া যতটুকু না খেলে নয় ততটুকুই খেতে হবে।
- প্রতিদিন সকালের খাবার দুপুরের খাবার রাতের খাবার সময় মত খাওয়া কোন বেলায় খাবার বাদ দেওয়া যাবে না।
- চা-কপি চিনি ছাড়া খেতে হবে।
- শাকসবজি পালং শাক লাল শাক পুঁইশাক লাউ শাক ফুলকপি মুলা টমেটো কাঁচা পেঁপে শশা চাল কুমড়ো কলার মোচা ইত্যাদি।
- আচার খেতে পারেন কিন্তু মিষ্টি ছাড়া।
- দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার উপায়
- ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিবেলায় খাবার খেতে হবে সময় মত।
- অতিরিক্ত লবণ বিজাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। প্রতিদিন সামান্য পরিমাণে শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে।
- বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান বাড়ির অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া যাবেনা।
- নিয়মিত হাটতে হবে এবং শরীরকে সচরা রাখতে হবে।
- ছেলেদের ধূমপান করা যাবে না।
- নিয়মিত ডাইবেটিস পরীক্ষা করতে হবে এবং ডায়াবেটিসের চিকিৎসা নেন ওষুধ বায়াম বিজ্ঞানসম্মত উপদেশগুলো মেনে চলুন।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য মানসিক চাপ নেওয়া যাবে না মানসিক চাপের জন্য বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে এইজন্য মানসিক চাপ থেকে নিজেকে সবসময় মুক্ত রাখুন। এতে আপনার দেহে হরমোনের মাত্রা ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যাবে।
- প্রতিদিন কফি পান করন কপি খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যায় তবে তিনি ছাড়া কপি খেতে হবে কপিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের জন্য উপকারী।
- প্রতিদিন সালাত খান গাজর শসা টমেটো ইত্যাদি। সালাতের সাথে আপনারা চাইলে ভিনেগার যুক্ত করে খেতে পারেন ভিনেগার রক্তকে সুগার শ্বসনে সহায়তা করে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যায়।
- ডাইবেটিস নিয়ন্ত্রণ পেঁপে খুব গুরুত্বপূর্ণ। পেঁপে মানবদেহের প্রোটিন সি ও ইউরিক এসিড কমাতে সাহায্য করে।
- প্রত্যক ব্যক্তিকেই দেহের ওজন স্বাভাবিক আর রাখতে হবে শুধু ডায়াবেটিসই নয় বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়। অস্বাস্থ্যকর ভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা ও কমে যায়।
আরো পড়ুন: গরুর মাংস কতটুকু খাওয়া উচিত
ডায়াবেটিস কত হলে মানুষ মারা যায়
ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা জেনে নিন? মানুষের শরীরের ডায়াবেটিস 40 mg/dI এর নিচে অথবা 400 mg/dI এর বেশি হলে যেকোনো সময় রোগী স্টক করে মৃত্যুবরণ হতে পারে। আবার অনেক সময় দেখা যায় অনিয়ন্ত্রণ ডায়াবেটিস এর কারণে শরীরের যে কোন অঙ্গ যেমন কিডনি হার্ট স্নায়ু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যার ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের মৃত্যু ঘটতে পারে। এজন্য ডায়াবেটিস কমে বেশি হয়ে গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঘটে।ডায়াবেটিস রোগীরা রক্তে শর্করার মাত্রা কতটা হলে জীবন শেষ প্রান্তে চলে যাবে এটা ধারণা করা অসম্ভব।
ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা হয়
ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যার ফলে দেহের মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি হয় যেমন-
- ডায়াবেটিস হলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
- শরীর দুর্বল হয়ে যায়।
- ডায়াবেটিসের জন্য কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
- ডায়াবেটিসের জন্য মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
- ডায়াবেটিসের জন্য চোখের দৃষ্টি শক্তি কমে যায়।
- ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরের কোন স্থানে কেটে গেলে তা সহজে ভালো হয় না এবং এই খাটাস্থান পচন ধরার ভয় থাকে।
কোন ফল খেলে ডায়াবেটিস কমে যায়
ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা জেনে নিন? ডায়াবেটিস রোগীরা বেশিরভাগ ফলে মিষ্টি উপাদান বেশি এজন্য ফল খেতে ভয় পায়। কিছু কিছু ফল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকার নিয়ে আসে। কিছু কিছু ফল আছে যেগুলো খেলে ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে ক্ষতি হয় না বড় উপকার হয় এইসব ফল প্রধা এর মাত্রা কমানো থেকে শুরু করে রক্তচাপের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে এতে থাকা প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ থাকে যা স্বাস্থ্যকর ও শরীরের জন্য উপকারী।
আপেল: আপেল মিষ্টি হলেও ডায়াবেটিসের কোন ক্ষতি করে না এতে থাকা বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান শরীরের জন্য কাজ করে আপেল খেতে হবে কিন্তু পরিমিত মাত্রায়।
পেঁপে: পেঁপে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক উপকার। এটি প্রাকৃতিক সমৃদ্ধি এটি কোষের ক্ষতির সম্ভাবনা কমায়। পেঁপেতে প্রাকৃতিক এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যার রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
কমলা: কমলাতে ফাইবার পরিপূর্ণ একটি ফল এটি রক্তের শর্করার শোষণকে ধীর করতে সাহায্য করে। কমলাতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এছাড়াও কমলাতে ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও আন্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।
কামরাঙ্গা: কামরাঙ্গা ভিটামিন সি ও ফাইবার সমৃদ্ধি ফল। কামরাঙ্গা কোষের ক্ষতি মেরামত করতে সাহায্য করে কামরাঙ্গা ফলটি ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারেন।
পেয়ারা: পেয়ারা তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ ও সি রয়েছে। পেয়ারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে এবং পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে।
বড়ই: বড় এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের টক বড়ই খেতে হবে। টকবড়ই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব উপকারী।
আনারস: আনারস ডায়াবেটিসের জন্য খুব উপকারী আনারসে রয়েছে আন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যার ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব উপকার করে থাকে।
কালো জাম: কালো জাম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খুব উপকারী একটি ফল কালো জামে রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে কালো জামের বীজ গুড়া করে খেলেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
আরো পড়ুন: এলার্জি জাতীয় সবজি তালিকা
লেখকের শেষ কথা
প্রিয় পাঠক আমি আমার এই আর্টিকেলে ডায়াবেটিসের লক্ষণ ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা জেনে নিন কোন ফল খেলে ডায়াবেটিস কমে যায় ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা হয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলাম।
আমার এই আর্টিকেল পড়ে আপনারা যদি উপকার পেয়ে থাকেন তাহলে আমার এই আর্টিকেলটি আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধব আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।
আশা অনলাইন শপ নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url