সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়ার ১৫টি উপকারিতা জেনে নিন
সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খেলে কি হয় চিয়া সিড এর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আপনারা সঠিক তথ্য খুঁজে পাচ্ছেন না। টেনশনের কোন কারণ নেই আজকে আমার এই আর্টিকেলে চিয়া সিড সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
প্রিয় পাঠক আমি আমার এই আর্টিকেলে খেলে চিয়া সিড খেলে কি হয়, ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম, গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা ও কিছু টিপস সম্পর্কে আমার এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করব। চিয়া সিড ও গুরুত্বপূর্ণ টিপস জানতে হলে আমার আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।
আরো পড়ুন: পুরো শরীরের মেদ কমানোর ১৫টি উপায়
ভূমিকা
চিয়া সিড খেলে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। চিয়া সিড প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, আন্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। চিয়া সিড এর অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। চিয়া সিডে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে এইজন্য পানিতে ভিজিয়ে খেলে অনেক সময় পর্যন্ত পেতে থাকে যা খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে ফেলে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খেলে কি হয় চিয়া সিডের বিভিন্ন উপকারে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
চিয়া সিড খেলে কি হয়
চিয়া সিড নিয়মিত খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি ও রক্তে ক্ষতি কর কোলেস্টেরলের ঝুঁকি কমায় রক্তে চীনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি স্বাভাবিক রাখতে চিয়া সিড খুব উপকারী। চিয়া সিড খেলে আমাদের শরীরের ক্ষতিকর প্রক্সিন পদার্থ বের করে দেই এবং পেটের গ্যাসের সমস্যা কমায় এবং ঘুম ভালো হতেও কাজ করে।
এছাড়াও চিয়া সিড নিয়মিত খেলে চুল নখ ও মুখের ত্বক ভালো রাখতে কাজ করে। কিন্তু অতিরিক্ত চিয়া সিড খাওয়া যাবেনা অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে যেমন- পেট ব্যথা, গ্যাস, ডায়রিয়া ইত্যাদি। তাই খাওয়ার পাশাপাশি পরিমাণ মত পানি পান করতে হবে।
চিয়া সিড খাওয়ার সময়
চিয়া সিড সকালে খালি পেটে খেতে পারেন আবার ঘুমানোর আগেও এটি খাওয়া যায়। চিয়া সিড খাওয়ার আগে হালকা পানি ও হালকা কুসুম গরম পানি দেব ২০ থেকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে এরপর খেতে হবে। চিয়া সিড আপনারা চাইলে পুডিং জুস ইত্যাদির সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন আবার টক দই সালাদ এর উপরেও খেতে পারেন।
সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খেলে কি হয়
সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খেলে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। চিয়া সিড প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, আন্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। সকালে খালি পেটে খাওয়ার ফলে শরীরের অনেক উপকার আসবে। চিয়া সিড এর অনেক পুষ্টিগণে রয়েছে। চিয়া সিডে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে এইজন্য পানিতে ভিজিয়ে খেলে অনেক সময় পর্যন্ত পেতে থাকে যা খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে ফেলে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। জেনে নিন সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খেলে কি হয়-
ওজন কমায়: চিয়া সিডে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। ফাইবার থাকার কারণে অনেক সময় পেট ভরা থাকে এবং ক্ষুধা নিবারণ করে ফলে ওজন কমাতে চিয়া সিড খুব উপকারী।
ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে: রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিয়া সিড খুব উপকারী।
এনার্জি বৃদ্ধি করে: চিয়া সিড সকালে খালি পেটে খেলে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পায়। এতে কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন রয়েছে যা সারা দিনের এনার্জি ধরে রাখতে সাহায্য কর।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: চিয়া সিড খাওয়ার ফলে কোলন পরিষ্কার রাখে এবং কোলন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে ফেলে।
গ্যাসের সমস্যা দূর করে: চিয়া সিড নিয়মিত খেলে হজম শক্তি বেড়ে যায় এবং গ্যাসের সমস্যা দূর হয়ে যায়।
রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি করেন: চিয়া সিড এ প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে শরীরকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: চিয়া সিড নিয়মিত খেলে পেটের সমস্যা দূর হয় এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থাকলে তা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চিয়া সিড এর উপকারিতা ও অপকারিতা
চিয়া সিড ছেলে শরীরের হিতরুকের ঝুঁকি ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তে ব্লাড সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে যা ডায়বেটিসের ঝুঁকি কমায় এছাড়াওচিয়া সিড খেলে শরীরের থাকা বর্জ্য টক্সিন গুলোকে বের করে দেয় এবং গ্যাসের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে এবং ঘুমও ভালো হয় আর পাশাপাশি চুল ও নখ ত্বক এর সুন্দর সৌন্দর্য ভালো রাখতে কাজ করে। জেনে নিন চিয়া সিড এর উপকারিতা-
- চিয়া সিড ব্লাড সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
- চিয়া সিড ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর করতে কাজ করে।
- চিয়া সিড ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
- উচ্চমাত্রায় ফাইবার, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- কাজ করার পর শরীর ক্লান্তি ভাব হলে চিয়া সিড খাওয়ার ফলে এর ক্লান্তি ভাব দূর হয়।
- চিয়া সিড খেলে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- দুধের চেয়েও চিয়া সিড এ অনেক বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় যার শরীরের হাড়কে মজবুত করতে সাহায্য করে।
- হাটু ও জয়েন্টের ব্যথা হলে চিয়া সিড খাওয়ার ফলে এসব সমস্যা দূর হয়ে যায়।
- চিয়া সিড খাওয়ার ফলে কোলন পরিষ্কার রাখে এবং কোলন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে ফেলে
- যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে চিয়া সিড খেলে সমস্যা কমে যায়।
- চিয়া সিডে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।
- চিয়া সিডে ওমেগা-৩ রয়েছে যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
চিয়া সিড এর অপকারিতা
সব জিনিসেরই ভালো ও খারাপ গুণ রয়েছে। চিয়া সিড এর ভালো পরিমাণ বেশি হলেও কিছুটা খারাপ প্রভাবও রয়েছে। চিয়া সিড বেশি খেলে অনেক ক্ষতিকর সমস্যা দেখা দেয়। জেনে নিন চিয়া সিড এর অপকারিতা-
- চিয়া সিড বেশি পরিমাণে খেলে পেটের সমস্যা দেখা দেয়।
- চিয়া সিড বেশি খেলে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- চিয়া সিড অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যেতে পারে এটি আপনার শরীরের জন্য খুব খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।
- চিয়া সিড বেশি পরিমাণে খেলে স্তন ক্যান্সার, ও ক্যান্সার এর ঝোঁকে বাড়িয়ে দিতে পারে এজন্য বেশি
- পরিমাণে না খেয়ে সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
- যাদের ফুসকুড়ি চুলকানি উচ্ছ্বাসকষ্ট সমস্যা রয়েছে তাদের চিয়া সিড না খাওয়াই উচিত।
- চিয়া সিড বেশি পরিমাণে খেলে শরীরে এলার্জি সৃষ্টি হতে পারে। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে চিয়া সিড খাওয়ার ফলে এই সমস্যা আরো বৃদ্ধির পেতে পারে এজন্য পরিমাণ মতো চিয়া সিড খাওয়া উচিত।
ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
চিয়া সিড সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানির সাথে দুই চামচ চিয়া সিড ও 2 চামচ লেবুর রস মিশিয়ে সকাল রাতে ঘুমানোর আগে খেলে ওজন দ্রুত কমে যায়। চিয়া সিড পানিতে ২০-৩০ মিনিট খাওয়ার আগে ভিজিয়ে রাখলে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকায় ক্ষুধায় নিবারণ হয়।
- চিয়া সিড শরবত টক দই ও অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে সুস্থ থাকতে দৈনিক ১০০ গ্রাম চিয়া সিড খাওয়া উচিত।
- ওজন কমানোর জন্য প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে তেমনি ডায়েটে চিয়া সিড রাখা ও খুব উপকারী।
- চিয়া সিডে ডাইরেটরি ফাইবার রয়েছে যার ফলে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
- হজম ক্ষমতা বাড়ানোর ফলে শরীরের মেদ কমিয়ে কালোদের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে।
- ডায়েটে চিয়া সিড এর পাশাপাশি সালাতের সাথেও খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা
চিয়া সিড গর্ভাবস্থায় খাবার অনেক উপকারিতা রয়েছে। গর্ভাবস্থায় সবকিছুই খেতে হবে তবে পরিমাণ মতো। এই সময় পুষ্টিকর খাবার খাবার উচিত তাহলে মা ও সন্তান দুজনেই ভালো থাকবে।
চলুন জেনে নেই গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা-
- চিয়া সিডে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে যা সন্তানের মস্তিষ্ক সন্তানের চোখের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন মায়ের চিয়া সিড খাওয়ার ফলে এ সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
- সুস্থ থাকতে গেলে প্রোটিনের খুব প্রয়োজন গর্ভাবস্থায় সন্তানের বৃদ্ধি ও বিকাশে প্রোটিনের বড় অবদান রাখে চিয়া সিড।
- চিয়া সিড ক্যালসিয়ামের মত খনিজ উপাদান রয়েছে যার শিশুর হার ও দাঁতের গঠনে খনিজের বড় ভূমিকা পালন করে। গর্ভাবস্থায় নারীদের ক্যালসিয়ামের চাহিদা বাড়ে এই জন্য চাহিদা মেটাতে খেতে পারেন চিয়া সিড ।
- গর্ভাবস্থায় দেহে রক্ত সরবরাহ বেড়ে যায় অনেক বেশি এইজন্য বেশি পরিমাণ লোহিত রক্ত কণিকার প্রয়োজন পড়ে শরীরটা তৈরিতে সক্ষম না হলে অ্যানিমিয়া ও রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। চিয়া সিড আইরন এর বড় উৎস রয়েছে যা মায়ের শরীরের রক্তের পরিমাণ এবং দূর হবে অ্যানিমিয়া।
- গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে হল বদহজম, গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যা। ফাইবার সমৃদ্ধি চিয়া সিড খেলে এ সমস্যাগুলো দূর হয় এবং হজমে সাহায্য হয়।
- গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন চিয়া সিড এক থেকে দুই চামচ পানিতে মিশিয়ে খেতে পারেন তবে তার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
লেখকের মন্তব্য-সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়ার ১৫টি উপকারিতা
প্রিয় পাঠক সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খেলে কি হয় চিয়া সিড এর উপকারিতা ও অপকারিতা ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম চিয়া সিড খেলে কি হয় গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আমি বিস্তারিত আলোচনা করলাম। আশা করছি আমার এই আর্টিকেল থেকে আপনারা সঠিক তথ্য পেয়েছেন এবং উপকৃত হয়েছেন। (ধন্যবাদ)
আশা অনলাইন শপ নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url