হিট স্ট্রোক এর ১০টি লক্ষণ ও হিট স্ট্রোক প্রতিরোধের উপায়

হিট স্ট্রোক এর লক্ষণ হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে আপনারা তথ্য পাচ্ছেন না আজকে আমি আমার এই আর্টিকেলে হিট স্ট্রোক সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
হিট স্ট্রোক কেন হয় এ সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই জানা নাই। এজন্য অবশ্যই আমাদের জেনে নিতে হবে। হিট স্ট্রোক প্রাথমিক চিকিৎসা, হিট স্ট্রোক কখন ও কেন হয় সম্পর্কে অবশ্যই আমাদের ধারণা থাকতে হবে তাহলে আমরা খুব সহজেই সচেতন হয়ে যাব। আমার এই আর্টিকেলে মনোযোগ সহকারে পড়লে তা বিস্তারিত জানতে পারবেন।

ভূমিকা

প্রিয় বন্ধুরা আমরা অনেকেই জানি না হিট স্ট্রোক কি, হিট স্ট্রোক এর লক্ষণ গুলো আমরা জানি না এই হিট স্ট্রোক এর কারণে অল্প বয়সে অনেকের মৃত্যুবরণ করছে। আমাদেরকে হেট স্টোর সম্পর্কে জানাটা খুব প্রয়োজন এবং সচেতন থাকতে হবে। যখন বেশি তাপমাত্রা হবে আমাদের বাহিরে যাওয়া উচিত নয়। বাহিরে গেলেও সঙ্গে পানির বোতল ছাতা অবশ্যই নিয়ে যেতে হবে। এবং বেশি ঘেমে গেলে ডাবের পানি স্যালাইন ঠান্ডা জাতীয় খাবার খেতে হবে। সচেতন হলে অবশ্যই আমরা এ হিট স্ট্রো এর ঝুঁকি কমাতে পারবো। হিট স্ট্রোক সম্পর্কে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস সম্পর্কে জানতে হলে আমার এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।

হিট স্ট্রোক কি

স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা যেমন ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাতাসে আর্দ্রতার অনুপস্থিতিতে বেশি সময় রোদে অবস্থান করলে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাপমাত্রার কারণে আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে মাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট এর চেয়েও বেশি হলে হিট স্ট্রোক হয়ে থাকে।

হিট স্ট্রোক এর লক্ষণ

হিট স্টক সাধারণত অতিরিক্ত গরমের কারণে হয়ে থাকে। আমাদের দেশে প্রতিনিয়তায় তাপমাত্রার পরিমাণ বেড়েই চলছে। এই তাপমাত্রার ফলে এ হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা বেড়েই চলছে। হিট স্টক হেয়ার কিছু লক্ষণ আছে সেগুলো আমাদের জানা খুব প্রয়োজন এবং সচেতন থাকতে হবে। চলুন জেনে নেই হিট স্ট্রোক এর লক্ষণ-

বিরক্তি বোধ করা: অতিরিক্ত গরম ও তাপের কারণে মানুষ হিস্টোকের আগে বিরক্তবোধ ও রাগারাগি করতে পারে। এবং এই সময় অনেক বেশি কথা বলে।
পেশিতে ব্যথা অনুভব করা: আমরা সাধারণত বেশিতে ব্যথা লাগলে ও ব্যথা অনুভব হলে এটা যে কোন গুরুত্ব দেয় না। হিট স্টোকের সময় এই ব্যথা লক্ষ্য করা যায়।
অজ্ঞান হয়ে পড়া: অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে শরীর অনেক দুর্বল লাগে এবং শরীর আরো ক্লান্তি ও দুর্বলতা তৈরি হয়। অনেক সময় আমরা অজ্ঞান হয়েও যেতে পারি এগুলোই হিট স্ট্রোকের লক্ষণ।
ঘাম না হওয়া: হিট স্ট্রোকের আরেকটি লক্ষণ হল প্রচন্ড গরমেও গা না ঘেমে যাওয়া। সাধারণত মনে করি যে শরীরে পানি না থাকার কারণে ঘাম হচ্ছে না এবং শরীরের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটি কাজ করছে না।
বমি বমি ভাব: মাথা ব্যথা দ্রুত স্পন্দন থেকে অক্সিজেনের অভাবের কারণেও হিট স্ট্রোকের আগে বমি বমি ভাব হতে পারে।
দ্রুত হৃদস্পন্দন হওয়া: হিট স্ট্রোকের আগে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দ্রুত হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে।
মাথা ব্যথা: প্রচন্ড গরমে মাথা ব্যথা হতে পারে এছাড়াও গরমে মানুষের মাইগ্রেনের ব্যথা অনেক বেশি বেড়ে যায় এটিও এক ধরনের হিট স্ট্রোকের লক্ষণ।
শ্বাসকষ্ট: হিট স্টক এর সময় শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতে পারে।

হিট স্ট্রোক কখন ও কেন হয়

হিট স্ট্রোক হলে মারা যাওয়া সম্ভবনা খুব বেশি। যারা দিনমজুর শ্রমিক মাঠে দীর্ঘ সময় ধরে রোদে কাজ করে তাদের হেড স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা। অনেক বেশি থাকে রোদে বেশি সময় থাকার ফলে তাপমাত্রা খুব বেশি ছড়িয়ে যায়। গরম শিশুদের ও বাহিরে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। শিশুদের তাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা খুব কম তাই শিশুদের ঝুঁকি অনেক বেশি।

হিট স্ট্রোকের সময় শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কেউ উঠে যায় ঘাম বন্ধ হয়ে যায়, মাথা ঝিমঝিম করে, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিচুরি হতে পারে।ও অতিরিক্ত ক্লান্তি ভাব দ্রুত শ্বাস নেওয়া শরীর দুর্বল হয়ে পড়া ইত্যাদি। হিট স্ট্রোক এর লক্ষণ গুলো হলো হিট স্ট্রোকের সময় মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, হৃদ স্পন্দন, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি বেড়ে যায় এসব সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই ছায়াযুক্ত বা শীতল স্থানে নিয়ে যেতে হবে চোখে পানি ঝাপটা দিতে হবে জামা কাপড় টাইট হলে অবশ্যই খুলে দিতে হবে এবং বেশি সমস্যা হলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়


  1. যখন রোদে যাবেন চোখ নিরাপদ রাখতে অবশ্যই সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে।
  2. বেশি গরম হলে আরামদায়ক ও হালকা ঢিলেঢালা সুতি কাপড় ব্যবহার করতে হবে।
  3. রোদের সময় বাহিরে গেলে অবশ্যই পানির বোতল পানি ভরিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
  4. বাহিরে যাওয়ার সময় যে খাবার খেলে হজম তাড়াতাড়ি হয় এমন খাওয়া উচিত বেশি বা খোলামেলা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  5. প্রস্রাব যদি হলুদ হয় তাহলে পানি বেশি পরিমাণে খাওয়া।
  6. গরমের সময় আমরা যদি ঘরে থাকি তাহলে ঘরের জানালা খুলে রাখা উচিত যাতে ঘর অতিরিক্ত গরম না হয়।
  7. বেশি অসুস্থ বোধ করলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
  8. রোদের সময় বাহিরে গেলে অবশ্যই ছাতা পায়ে স্যান্ডেল ব্যবহার করতে হবে।
  9. বেশি করে ফল ও সবজি খেতে হবে ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
  10. অতিরিক্ত গরমের সময় অ্যালকোহল বাদ দিতে হবে কারণ অ্যালকোহলে সুগার ড্রিস্কগুলো শরীরে পানি শূন্যতার সৃষ্টি করতে পারে।
  11. অতিরিক্ত গরমের সময় চা কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন চা কফি খাওয়ার ফলে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এবং এছাড়াও থেকে বিরত থাকতে হবে।
  12. রোদে কাজ করলে অবশ্যই ঝালাইয়েন ফলের জুস শরবত ডাবের পানি খুবই প্রয়োজন এসব খেলে হিট স্ট্রোকের সমস্যা এরানো সম্ভব।

হিট স্ট্রোক এর প্রাথমিক চিকিৎসা

কারো যদি হিট স্টক ও অচেতন হয়ে পড়ে হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রাথমিক চিকিৎসা গুলো যে সব করতে হবে তা নিচে আলোচনা করা হলো-

  1. হিট স্ট্রোকের একান্ত ব্যক্তি কে ঠান্ডা জায়গায় রাখতে হবে।
  2. হিট স্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিৎসা হলো রোগীর শরীরে অপ্রয়োজনীয় কাপড় থাকলে তা খুলে ফেলতে হবে।
  3. রোগীকে বাতাস করতে হবে, কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে পুরো শরীর মুছে দিতে হবে।
  4. শরীরের তাপমাত্রা যদি না কমে তাহলে বগল খাওয়ার পীর আইসপ্যাক ব্যবহার করতে হবে।
  5. রোগীর যদি শ্বাসকষ্ট বুকে ব্যথা দুর্বলতা মাথা ঝিমঝিম করে তাহলে অবশ্যই দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

লেখকের মন্তব্য - হিট স্ট্রোক এর লক্ষণ ও হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়

প্রিয় পাঠক হিট স্ট্রোক হলো এক ধরনের রোগ যা আমাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকে। এজন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে আমি আমার এই আর্টিকেলে হিট স্ট্রোকের কারণ ও প্রতিকার হিট স্ট্রোক কিহিট স্ট্রোক এর লক্ষণ, হিট স্ট্রোক এর প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলাম আশা করি আমার এই আর্টিকেল থেকে সম্পূর্ণ ধারণা পেয়েছেন এবং উপকৃত হয়েছেন। (ধন্যবাদ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আশা অনলাইন শপ নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url